Friday, March 27th, 2026, 6:01 pm

নড়াইলে সয়াবিনের বিকল্পে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সূর্যমুখীর আবাদ

 

নড়াইল প্রতিনিধি:

ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে নড়াইলে বাড়ছে সূর্যমুখী আবাদ। সয়াবিন তেলের তুলনায় কম কোলেস্টরেল এবং সহজে চাষ উপযোগী হওয়ায় সূর্যমূখী ফুলের আবাদে বেশ আগ্রহী এলাকার কৃষকেরা। কম খরচে অধিক ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন এ জেলার কৃষকেরা। ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিকল্প পদ্ধতি ও অধিক লাভের আশায় এর চাষ বাড়ছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরের তুলনায় এ বছর সূর্যমুখী আবাদ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। জেলায় সূর্যমুখী আবাদ শুরু হয় ২০২২- ২০২৩ অর্থবছরে। এ সময় জেলায় মোট সূর্যমুখী আবাদি জমি ছিল ৯৮ হেক্টর। যা থেকে উৎপাদন হয়েছিল ২২৮ মে. টন সূর্যমুখী বীজ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ১০৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখীর আবাদ করা হয় এবং উৎপাদন হয় ২৪২ মে. টন সূর্যমুখী বীজ।

এরপর ২০২৪ -২০২৫ অর্থ বছরে ১১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদে উৎপাদন হয় ২৫৪ মে. টন বীজ। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সূর্যমুখী আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১১৭ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ১৯১ মে. টন। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪ হেক্টর বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। ফলে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৪৩ মেট্রিক টন পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদিত তৈলবীজ বিক্রয় কৃষকেরা প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ২৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্যা এ বছর এক একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তার উৎসাহে এ বছর সূর্যমুখী আবাদ করেছেন তিনি। এতে তার ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক একর জমির সূর্যমুখীবীজ বিক্রি করে ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা তার।

সূর্যমুখী চাষ ধান চাষের তুলনায় অন্তত তিনগুণ লাভ দাবি করে আব্দুলাহ বলেন, এক মণ সূর্যমুখী বীজের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা। এক একর জমিতে ২৭ থেকে ২৮ মণ সূর্যমুখী বীজ উৎপাদন হয়। আব্দুল্লাহর মতো নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকেরা। তাদের অনেকেই ধান ও গমের পরিবর্তে সূর্যমুখীর চাষ করছেন।

কৃষকেরা বলেন, ধান, গম ও সবজি চাষের চেয়ে সূর্যমুখী চাষ অনেকটা সহজ। এতে কোনো সেচ লাগে না। সার ও কীটনাশক তেমন প্রয়োজন হয় না। সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে আশানুরূপ তেল পাওয়া যায়। বাজারে ও এ তেলের বেশ চাহিদা রয়েছে। জ্বালানি হিসাবেও এ গাছের চাহিদা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, সূর্যমুখীর তেল অন্যান্য ভোজ্য তেলের চেয়ে পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে প্রণোদনার আওতায় ১৩ শ’ ৫০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সূর্যমুখীর চাষ এবং পোকামাকড় দমনসহ অন্যান্য পরিচর্যা সম্পর্কে মাঠ কর্মীর মাধ্যম নিয়মিত কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আশা করি সূর্যমুখীর যে ফলন দেখা যাচ্ছে, তা থেকে জেলায় ৪৪৩ মে. টন সূর্যমুখী তৈলবীজ উৎপাদন হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি মেট্রিক টন সূর্যমুখী বীজ থেকে প্রায় ৪শ’ কেজি তেল (প্রতি ১০ কেজি বীজ থেকে ৪ কেজি তেল হয়) পাওয়া যায়, যা থেকে কৃষকেরা প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ২৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। সূর্যমুখীর চাষ এভাবে অব্যাহত থাকলে আশা করি সয়াবিন তেলের আমদানী নির্ভরতা কমবে, আমরা স্বাবলম্বী হতে পারবো এবং আমাদের বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।