Friday, March 27th, 2026, 7:26 pm

‘সরকার বলছে সংকট নেই, কিন্তু পাম্পে পাওয়া যাচ্ছে না তেল’: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

ছবি: বিবিসি

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দেশের পাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ ভোক্তারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রাজধানীর আসাদগেট তালুকদার পাম্প, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন, উত্তর বাড্ডার মক্কা পাম্প এবং মহাখালী ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ তেল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।

খিলগাঁও-বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাব্বির বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেল নিতে আসি। এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে লাইন এগোয়নি। পরে পাশের পাম্পে গিয়ে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পেয়েছি।’

ধানমন্ডি থেকে আসা বাইক রাইডার মো. হাসান মাহমুদ বলেন, ‘দু’ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও তেল পাইনি। সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে আয় কীভাবে হবে?’

মোহাম্মদপুরের বেসরকারি চাকরিজীবী বাইকচালক সামির বলেন, ‘তেল মজুত আছে শুনছি, কিন্তু তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা চাই সরকার নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করুক এবং দাম না বাড়ুক।’

মহাখালী ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ পাম্পের মোটরসাইকেলচালক রাজু আহমেদ বলেন, ‘আজকের দিনটাই লাইনে দাঁড়িয়েই শেষ হয়ে গেছে। সরকার বলছে তেলের সংকট নেই—তাহলে পাম্পগুলোর এই অবস্থা কেন?’

তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে বেসরকারি অফিস, মার্কেটগুলো খুলবে। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তেলের অভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

সরকারের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বৈশ্বিক তেল মজুদের অর্ধেক এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের এক‑তৃতীয়াংশেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। এই অঞ্চল থেকে সরবরাহে বাধা এলে বাংলাদেশের মতো আমদানি‑নির্ভর দেশগুলোর ওপর তা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজিএমইএ এর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘শিপিং কষ্ট বেড়েছে, অনেক অর্ডার আটকে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকট কারখানাকে ভোগাবে এবং এটি আরও জটিলতা সৃষ্টি করবে।’

অর্থনীতিবিদরা বলেন, বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা, আমদানি উৎস বহুমুখীকরণ, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো জরুরি। সময়োপযোগী ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেশকে মোকাবিলায় কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।

এনএনবাংলা/