Tuesday, March 31st, 2026, 2:00 pm

২৬ দিনে ২ লাখ লিটার তেল উদ্ধার: অভিযান, মামলা ও কারাদণ্ড

 

দেশব্যাপী অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে গত ৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে সারা দেশে মোট ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ডিজেল, যার পরিমাণ ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার। এছাড়া ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন এবং ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুতকারীদের কাছ থেকে মোট ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসেন চৌধুরী জানান, জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এর আগে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া, জ্বালানি তেলের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। জনগণের সঙ্গে এসব টিমের যোগাযোগ সহজ করতে মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার অন্যতম কারণ হলো অবৈধ মজুত, সরবরাহ চেইনের দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা। তাদের মতে, সরকার যদি নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে কৃত্রিম সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, জ্বালানি খাতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হলে তেল সরবরাহ, মজুত ও বিতরণের প্রতিটি ধাপ সহজেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির প্রসার এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের জ্বালানি খাত আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।

এনএনবাংলা/পিএইচ