Wednesday, April 1st, 2026, 3:07 pm

রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

 

দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করায় আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে উপজেলা পর্যায়ে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি আরও জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার।

সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নতুন করে দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই জেলাগুলোতে হামের সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি। ইতোমধ্যে দেশে সাত শতাধিক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং পঞ্চাশের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

হামের টিকাদান কার্যক্রমে অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি না করে দ্রুত কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি। তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দিলে রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১৬ থেকে ১৮ জনের মধ্যে হাম ছড়িয়ে দিতে পারেন।

বাংলাদেশে শিশুদের সাধারণত দুই ধাপে হামের টিকা দেওয়া হয়। সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে নিয়মিত এই টিকা প্রদান করা হয়। গ্রামাঞ্চলে সরকারের মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সিটি করপোরেশনের ভ্যাকসিনেটর ও এনজিও কর্মীরা এই টিকা প্রদান করেন।

এ ছাড়া কয়েক বছর পরপর জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। নিয়মিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৯ মাস বয়সে শিশুকে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। জাতীয় ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। দেশে সর্বশেষ জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে।

এনএনবাংলা/পিএইচ