Wednesday, April 1st, 2026, 4:59 pm

খুলনায় সংক্রমণ ঝুঁকি, সুরক্ষিত স্থান খোলা পরিবেশে

খুলান প্রতিনিধি:

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের জরুরি বিভাগের পাশেই খোলা স্থানে রাখার ঘটনায় সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এমন খোলা স্থানে সংক্রামক রোগীর চিকিৎসা হলে অন্য রোগী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশেই হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথকভাবে রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এ জন্য আটটি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবে রোগীদের কোনো সম্পূর্ণ আইসোলেশন  বা সুরক্ষিত স্থানে না রেখে খোলা পরিবেশেই রাখা হচ্ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিদিন হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনদের আগমনে মুখর থাকে। জরুরি বিভাগ থেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় অধিকাংশ রোগীকে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানের পাশেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের রাখা হওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

হাসপাতালের উপ- পরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ বলেন হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। পরিস্থিতির অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। আর এ পরীক্ষা একদম ফ্রি ।

তবে সরেজমিনের চিত্রে দেখা গেছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বিচ্ছিন্নতা (আইসোলেশন) নিশ্চিত করা হয়নি বলে মনে করছেন অনেকে। এতে করে অন্যান্য রোগী, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালে আসা মনির নামের এক অভিভাবক এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি ও বাস্তব চিত্রে বৈষম্য রয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ আইসোলেশন ব্যবস্থা করা হয়নি। এমন খোলা স্থানে সংক্রামক রোগীর চিকিৎসা হলে অন্যদের মধ্যে সহজেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা:  প্রদীপ দেবনাথ বলেন এটা একটা ছোঁয়াচে রোগ যেহেতু আমাদের এটা শিশু হাসপাতাল এখানে বেড ফাঁকা থাকে না, আমরা আউটডোরে এরকম কিছু রোগী পেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অথবা খুলনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই  আমরা আলাদা কোন ব্যবস্থা করি নাই।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তবে শয্যার সংখ্যা মাত্র ৫০টি হওয়ায় রোগী আসলেও তাদের সম্পূর্ণ আলাদা বা সুরক্ষিত স্থানে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যার সংখ্যা সীমিত। রোগীর চাপ সাধারণত শয্যার সংখ্যার অনেক বেশি। তাই চাইলেও আইসোলেশন বা সুরক্ষিত স্থানে রাখা সবসময় সম্ভব হয় না। তবে আমরা সাধ্যের মধ্যে চেষ্টা করছি। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত রোগীদের সঠিকভাবে আইসোলেশনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০ শয্যা তাকলেও রোগী থাকে ১৪০০ এর উপরে তাই আলাদা যায়গায় করা সম্ভাব হয় নয়াই ।