Thursday, April 2nd, 2026, 4:50 pm

পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে ২১৯০ জাহাজ, ২০ হাজার নাবিক

হরমুজ প্রণালিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজগুলো। একজন ব্যক্তি তীর ধরে হেঁটে যাচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান থেকে ১১ মার্চ তোলা ছবি (আরব নিউজ)

 

পারস্য উপসাগর এলাকায় বর্তমানে এক নজিরবিহীন মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের কঠোর অবরোধের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ৩২০টি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারসহ অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে।

বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ ম্যারিন ডাটা অনুযায়ী, এসব জাহাজ পারস্য উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থানে স্থবির হয়ে রয়েছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্যে জানা যায়, আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ৫০টি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী এবং ১২টি তরল গ্যাস পরিবহনকারী জাহাজ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে মাত্র ৬টি জাহাজ এ পথ অতিক্রম করতে পেরেছে।

বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান। শুধু লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে নির্ধারিত একটি বিশেষ করিডোর ব্যবহার করে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দিতে ইরান প্রায় ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত ফি আদায় করছে। নৌ-চালকরা এই ব্যবস্থাকে ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে অভিহিত করছেন।

তবে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, মালয়েশিয়ার মতো ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে এই ফি মওকুফ করা হতে পারে। মালয়েশিয়ার পেট্রোনাসসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জাহাজ বর্তমানে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

চীন জানিয়েছে, তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ বিশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করতে পেরেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, চীনের দুটি কন্টেইনার জাহাজ বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুতগতিতে এই পথ পার হয়েছে।

অন্যদিকে, একটি গ্রিক জাহাজ সৌদি আরবের তেল নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভারতের এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজও ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়েছে।

এই সংকটের মধ্যে শুধু জাহাজই নয়, প্রায় ২০ হাজার নাবিকও পারস্য উপসাগরের উত্তাল সমুদ্রে আটকা পড়েছেন। মাইন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় অনেক জাহাজ রাতের অন্ধকারে কিংবা ট্র্যাকার বন্ধ রেখে চলাচলের চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ৩৫টি দেশের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার আবারও ইরানকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে তেহরানকে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সূত্র: আরব নিউজ

এনএনবাংলা/পিএইচ