বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি কেবল সংস্কারের পক্ষে নয়, বরং তা বাস্তবায়নেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণা চালিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতি প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশে সংস্কারের সূচনা করেন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতি চালু করে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন করেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলার পর নিরস্ত্র বাঙালিরা যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ বাঙালিকে উদ্দীপ্ত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে এবং জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সেক্টর কমান্ডাররা একত্রিত হয়ে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘সূতিকাগার’ হিসেবে পরিচিত।
মির্জা ফখরুল আরও দাবি করেন, সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন এবং খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিবছর ৪ এপ্রিল ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ পালন করা হয়ে থাকে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
আ.লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে
রাজধানীতে গ্যাসলাইট কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে সাত ইউনিট
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ৪ গ্রামের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত শতাধিক