Sunday, April 5th, 2026, 8:36 pm

সড়কমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির এমপি মনিরুল

 

জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দেওয়া জবাবে তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি মন্ত্রীর বক্তব্যকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের উত্তরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “হতাশ হলাম। আওয়ামী লীগের সময় মন্ত্রীরা যে উত্তর দিতেন, মন্ত্রীসাব সেই উত্তর দিয়েছেন।”

রোববার (৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্পূরক প্রশ্নে মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, কুমিল্লার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও প্রয়োজনীয় আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “অনুমোদিত ওভারপাসটি কেন হলো না?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের কুত্তা মার্কা নির্বাচনের সময় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হলেও কেউ ক্ষতিপূরণ পাননি।

মন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মনিরুল হক আরও বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় বললেন ওভারপাস হবে, এক্সপ্রেসওয়ে হবে—এ রবীন্দ্রসংগীত বহু শুনেছি। আমাদের শান্তিমতো মরতে দেন। উনার প্রতিটি কথা সচিবেরা যা বলে দিয়েছে, যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে, তারা শিখিয়ে দিয়েছে—সেটাই তিনি বলেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করছি।’

এদিকে জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তিনি বলেন, “প্রকল্পটি আগে থেকেই চলমান ছিল। আমরা নকশা পরিবর্তন ও বাজেট সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।”

মন্ত্রী আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সমস্যার বিষয়ে ইতোমধ্যে সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

একপর্যায়ে স্পিকার মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এসব পদক্ষেপে মনিরুল হক চৌধুরীর সমস্যার সমাধান হবে কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আংশিক হবে।

এর আগে উত্থাপিত জরুরি নোটিশে বলা হয়, কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সংযোগস্থলে ‘দানবীয় ব্যারিকেড’ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া টমছম ব্রিজসহ সাতটি স্থানে আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন না থাকায় এলাকাটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নতুন পরিকল্পনায় ওই এলাকায় তিনটি আন্ডারপাস এবং পদুয়ার বাজারে আরও দুটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এনএনবাংলা/