খুলনা প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে এবার তৎপরতা শুরু হয়েছে নারী নেত্রীদের। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাপ। এই আলোচনায় খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন ফারজানা রশিদ লাবনী। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও তাকে এই আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাওয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্র সংসদে দুইবার ভিপি নির্বাচিত হন ফারজানা রশীদ লাবনী।
সাবেক এই নেত্রী রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা করেন। প্রিন্ট মিডিয়ায় তিনি প্রথম নারী, যিনি দেশের প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিকে বিজনেস এডিটরের দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি খুলনার সাবেক মেয়র তৈয়েবুর রহমানের ভাগ্নে। ফারজানা রশিদের ভাই ড. মামুন রহমান লন্ডনে থাকতেন। বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে তিনি খুলনায় চলে আসেন এবং এলাকার মানুষের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু আওয়ামী লীগের শাসনামলে ড. মামুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দেওয়া হয় এবং তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে তিনি লন্ডনেই মারা যান।
‘খুলনা-বাগেরহাট সংরক্ষিত আসনে কেন প্রার্থী হচ্ছেন?’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি খুলনার মেয়ে ও বাগেরহাটের বউ। এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয়, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক। মানুষের জন্য কাজ করব বলেই অনেক ছোট বেলা থেকেই রাজনীতিতে আসি। তবে মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন হয়; একটি পদ থাকলে কাজ করা সহজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাজের মূলমন্ত্র হলো- সবার আগে বাংলাদেশ। আল্লাহ যদি আমাকে সেই সুযোগ দেন, তবে আমিও একই আদর্শ ও বিশ্বাসকে সামনে রেখে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। একই সঙ্গে নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রগুলোতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।
১৯৮৮ সালে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ফারজানা লাবনী বিএনপিতে যোগদান করেন। দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন স্মৃতি কথা উল্লেখ করে বলেন, ছোটবেলায় একটি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করি। তখন এতটাই ছোট যে-সেই সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার পর তিনি আমাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন।
১৯৯৬ সালে ছাত্রদলের কনভেনশনে বক্তৃতা দেওয়ার পর তাকে জড়িয়ে ধরেন বেগম খালেদা জিয়া। সে সময় প্রায় সব জাতীয় দৈনিকে তাকে নিয়ে আলাদা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। খালেদা জিয়া যখন বন্দি ছিলেন এবং আদালতে হাজির করা হতো, ফারজানা রশীদ প্রতিবার সেখানে যেতেন। এসব নিয়ে অনেক রিপোর্ট করেছেন। এ কারণে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আটকের ভয়ে নিজের বাসায় ঘুমাতে পারতেন না। পালিয়ে থাকতে হয়েছে।
ফারজানা রশিদ লাবনী খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্র সংসদে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তৎকালীন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি-যিনি বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন-তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটিতে তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়। পরে তাকে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা করা হয়। এরপর বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ আদালতে বিচারকার্যের সময় প্রতিদিন উপস্থিত থেকেছেন। অনেক সংবাদ সংগ্রহ করে তার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি মুক্তির পর গুলশান অফিসে অনেকের সামনে তাকে দেখিয়ে বলেছিলেন, ও আমার অনেক খোঁজখবর নিয়েছে। ফারজানা রশিদ বলেন, নেত্রীর সেই স্নেহমাখা কথাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

আরও পড়ুন
ভাঙ্গুড়ায় সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
ফুলবাড়ীতে ট্রলি উল্টে চালকের মৃত্যু
সিলেটে হাম, রুবেলার প্রকোপ বৃদ্ধি: ১ শিশুর মৃত্যু