Thursday, April 9th, 2026, 3:14 pm

রেলওয়ের বহরে ভারত থেকে যুক্ত হচ্ছে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ: সেতুমন্ত্রী

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত থেকে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ ক্যারেজ (কোচ) সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নতুন কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আধুনিক কোচ যুক্ত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ট্রেন চালু ও রুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গতি আসবে।

সংসদে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লার লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা-কমলাপুর থেকে ফরিদপুর, রাজবাড়ী হয়ে মধুখালী ও গোপালগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ট্রেন চালুর বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তবে এই রুটে ট্রেন চালু করা মূলত নতুন কোচ ও ইঞ্জিন সরবরাহের ওপর নির্ভর করবে।

তিনি আরও জানান, ভারত থেকে নতুন কোচ সরবরাহ শুরু হলে প্রাপ্তি অনুযায়ী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নতুন রুট নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আধুনিক এসব কোচ যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও আরামদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রেলওয়ের বর্তমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বনলতা এক্সপ্রেসের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র ইঞ্জিন, কোচ ও জনবল সংকট বিদ্যমান।

এই সংকটের কারণে বর্তমানে ১৯টি মেইল বা কমিউটার ট্রেন এবং ২১টি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত ক্রু ও ইঞ্জিনের অভাবে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেন পুশব্যাক বা পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে নতুন কোচ যুক্ত হলে এই সংকটের বড় একটি অংশ সমাধান হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারত থেকে আমদানিকৃত ২০০টি ব্রডগেজ কোচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই বৃহৎ বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সংগ্রহ ও জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিমুক্ত রেলসেবা পেতে পারে।

এনএনবাংলা/পিএইচ