ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবানন সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল। শুরু থেকেই ইসরায়েলি প্রশাসন ইরান ও হিজবুল্লাহর ফ্রন্টকে আলাদা করে দেখার চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধবিরতির বিষয়টি উপেক্ষা করেই লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ সীমিত পরিসরে রকেট হামলা চালালেও, বিশ্লেষকদের মতে ইসরায়েল এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগগুলোকে ভেস্তে দিতে চাইছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, শুরুতে তারা হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিল। তাদের ধারণা অনুযায়ী, আগের সংঘর্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরও হিজবুল্লাহ এখন বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং হাজার হাজার যোদ্ধা ও শত শত রকেট নিয়ে এখনও সক্রিয় রয়েছে। এই যুক্তিকেই সামনে রেখে তেল আবিব লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
তবে সংকট কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন।
ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলের যে বড় প্রতিশ্রুতি নেতানিয়াহু দিয়েছিলেন, বর্তমান বাস্তবতায় তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে এই ব্যর্থতা ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার চেয়েও তার জন্য বেশি ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
বছরের শেষের দিকে সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড ইতোমধ্যেই জনসমক্ষে নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা শুরু করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে নিজের রাজনৈতিক সংকট সামাল দিতে এবং ব্যর্থতা ঢাকতে আগামী দিনগুলোতে নেতানিয়াহু কী কৌশল গ্রহণ করেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়: সন্তুষ্ট নন মা-বাবা, আরও কঠোর শাস্তির দাবি
বিদ্যুৎ বাঁচাতে বদলে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে: সিইসি