Saturday, April 11th, 2026, 4:20 pm

বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

 

ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র শনিবার জানিয়েছে, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় দিতে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় এই অগ্রগতিকে তেহরানের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, রয়টার্সকে জানায় যে এই সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি প্রধান বিষয় হতে পারে।

তবে ঠিক কত পরিমাণ অর্থ ছাড় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রথম সূত্রটি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

অন্যদিকে আরেকটি ইরানি সূত্র দাবি করেছে, কাতারে রাখা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এই অর্থ আট বছর আগে জব্দ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে প্রথম দফায় এটি স্থগিত করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থটি ছাড়ের কথা থাকলেও, একই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন অর্থটি আবারও স্থগিত করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন, এই অর্থ ইরান ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে পুরো অর্থ আবারও জব্দ করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

এই অর্থের উৎস ছিল দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির আয়। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। একই সময় তিনি ইরানের পারমাণবিক চুক্তিও বাতিল করেন।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরান পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয়, আর যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়।

তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধু মানবিক খাতে ব্যবহার করা যাবে—যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনা। এসব ব্যয় মার্কিন ট্রেজারির তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সরবরাহকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সূত্র: রয়টার্স

এনএনবাংলা/পিএইচ