পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগের প্রস্তুতি নেয় বলেও জানা গেছে।
আলোচনা-পরবর্তী সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল, তবে ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি।
তিনি বলেন,আমরা এমন একটি অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরান আমাদের শর্ত মেনে নেবে।
ইরানের জব্দকৃত সম্পদের বিষয়ে তিনি জানান, এ বিষয়সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় এসেছে।
ভ্যান্স আরও জানান, আলোচনা চলাকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন।
তিনি বলেন,গত ২১ ঘণ্টায় আমরা কতবার তার সঙ্গে কথা বলেছি ঠিক জানি না—হয়তো ছয়বার, হয়তো বারোবার। তবে খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি।
একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছে, যা তাদের সর্বশেষ ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন ইরান সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না, তা দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, আলোচনায় যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল, তা পাকিস্তানের কারণে নয়। তিনি বলেন, পাকিস্তান এ আয়োজন সফল করতে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা ও সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তবে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়াটা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই সংবাদ ব্রিফিং শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এয়ার ফোর্স টু বিমানে আরোহন করেন। ইসলামাবাদ থেকে বিমানটি উড্ডয়নের আগে সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে তিনি হাত নেড়ে বিদায় জানান। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরাও তার সঙ্গে ছিলেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যা অর্জন করতে পারেনি, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তার সবকিছুই দাবি করেছে।
সংস্থাটির ইসলামাবাদে অবস্থানরত এক সংবাদদাতার বরাতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি এবং আরও কয়েকটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্ত ইরান গ্রহণ করেনি।
এছাড়া, আলোচনা চলাকালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা ‘নিবিড়’ হলেও এর সাফল্য নির্ভর করছে অপর পক্ষের সদিচ্ছার ওপর।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত দাবি ও আইনবহির্ভূত অনুরোধ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং ইরানের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ মেনে নেওয়ার কথা বলেন।
তিনি আরও জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানে চলমান যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
১৯৭৯ সালের পর যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম সরাসরি আলোচনা। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে শনিবার ভোরে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ওই প্রতিনিধি দলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও রয়েছেন।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তির পথে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ ইসরায়েল
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করার চিন্তা সরকারের
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত দুই এমপির শপথ গ্রহণ