ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কূটনীতির পথ কখনো বন্ধ হয়ে যায় না।
ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই আলোচনা মার্কিন পক্ষের ‘অতিরিক্ত’ দাবির কারণে চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
তবে আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন বাকায়ি। তিনি জানান, উভয় পক্ষ বেশ কয়েকটি বিষয়ে বোঝাপড়ায় পৌঁছালেও দুই থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত এক বছরের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ব্যাপী আলোচনা, যা প্রায় ২৪ থেকে ২৫ ঘণ্টা ধরে চলে।
বাকায়ি বলেন, চাপিয়ে দেওয়া একটি যুদ্ধের ৪০ দিন পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্পূর্ণ অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে। তাই শুরু থেকেই একটি আলোচনার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমরা করিনি, এবং কেউই এমনটি প্রত্যাশা করেনি।
তিনি আরও বলেন, কূটনীতি কখনো শেষ হয় না। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য কূটনীতিকদের যুদ্ধকাল ও শান্তিকাল—উভয় সময়েই দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।
বাকায়ি জানান, আলোচনার সম্ভাব্য সাফল্য নির্ভর করছিল বিরোধী পক্ষগুলোর সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ওপর, পাশাপাশি ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও।
আলোচনার জটিলতার বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন কিছু ইস্যু—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বিষয়—আলোচনায় যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এসব প্রতিটি বিষয়েরই নিজস্ব জটিলতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক মহলকে ইরানি জনগণের অধিকার ও স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সামরিক বাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ দেশটির সরকার, কর্মকর্তা ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তির পথে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ ইসরায়েল
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করার চিন্তা সরকারের
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত দুই এমপির শপথ গ্রহণ