নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্ষায় ভারী বৃষ্টি হলেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ডুবে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পাম্প মেশিনের অর্ধেকই চলছে না। ঢাকা ওয়াসা হতে হস্তান্তরকৃত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওসব পাম্প নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনই এখন বিপাকে পড়েছে। যে কারণে ভারী বৃষ্টি হলে রাজধানীর মধ্যাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা ডুবে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কমলাপুর পাম্প স্টেশনের প্রতি সেকেন্ডে ৫ ঘনমিটার পানি তোলার ৩টি পাম্পের মধ্যে ২টি, রামপুরায় একই ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি পাম্পের মধ্যে একটি এবং ধোলাইখালে প্রতি সেকেন্ডে ৭.৫ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন সেচের ৩টি পাম্পের ৩টিই অচল। আর চালু যন্ত্রগুলো ৩০-৪০ ভাগ কার্যক্ষমতা নিয়ে চলছে। তাছাড়া কল্যাণপুরে ৫টি পাম্প চালানোর মতো পানি পাওয়া যায় না। কারণ বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ১৭১ একর জলাশয়ের ১৬৮ একরই দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। তার ওপর পানির লেভেল এবার জুনেই বিপৎসীমা ৪.৮ এর কাছাকাছি চলে এসেছে। এমন অবস্থার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা ঢাকা ওয়াসাকে দায়ী করছে। তাদের মতে, ওয়াসা রামপুরা ও কমলাপুরে দুটি স্টর্ম ওয়াটার পাম্প স্টেশন স্থাপনের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছে। বিগত ২০১৬ সালে পাম্প স্টেশন দুটি স্থাপনের সময় ২২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তবে কোনও যন্ত্র স্থাপনের মাত্র ৬ বছরে তা নষ্ট হওয়ার কথা নয়। এখন বিকল পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন নিয়ে দুই সিটি কর্পোরেশনই বিপাকে পড়েছে।
সূত্র জানায়, চারদিকে নদীবেষ্টিত ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলে বুড়িগঙ্গার পাড়ে বেড়িবাঁধ ও পূর্বাঞ্চলে বালু নদীর তলদেশ উচুঁ হওয়া এবং খাল দখলের কারণে রাজধানীর মধ্যাঞ্চল বৃষ্টির পানি জমার জায়গায় পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে পানি অপসারণের জন্য রামপুরায় ৫টি, কল্যাণপুরে ৫টি, কমলাপুরে বড় ৩টি ও ছোট ৫টি, ধোলাইখালে ৩টি পাম্প রয়েছে। সেগুলো ঢাকা ওয়াসার অধীনে ছিল। তাছাড়াও মিরপুরের গোড়ান চটবাড়িতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি পাম্প স্টেশন রয়েছে। বিগত ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ধোলাইখাল ও কমলাপুর পাম্প স্টেশন এবং উত্তর সিটিকে রামপুরা ও কল্যাণপুর পাম্প স্টেশন হস্তান্তর করে ঢাকা ওয়াসা।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনের ৩টি পাম্পের ২টিই বিকল। পাম্প দুটির মেরামত দরকার। ওই কাজের জন্য টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারের দেখা নেই। এমন অবস্থায় হঠাৎ ভারী বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি খুবই নাজুক হবে। তাছাড়া ধোলাইখালেরও ৩টি পাম্প অচল। ওই ৩টি পাম্পেই জরুরি বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক মেরামত প্রয়োজন। জুলাইয়ে সাধারণত পানি বাড়ে। এমন অবস্থায় জলাবদ্ধতায় ঢাকা ডুবে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও কমলাপুরে ওয়াসা স্থাপিত পাম্পে বিভিন্ন কোম্পানির পার্টস লাগানো রয়েছে। কিন্তু নতুন কোনও যন্ত্রে এমন হওয়ার কথা না।
এদিকে পাম্পগুলো নিয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান দাবি করেন, ওয়াসা যখন পাম্পগুলো হস্তান্তর করে তখন সবগুলোই ঠিক ছিল। পাম্পগুলো ঠিক না থাকার অভিযোগ মিথ্যা। প্রতিবছর পাম্প চালাতে হবে। আবার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণও দরকার। সেগুলো নিয়মিত না করলে যন্ত্র ঠিক থাকবে না। আর হস্তান্তরের আগে ওয়াসা একটা পাম্প রিপ্লেস করতে চেয়েছিল। ঢাকা শহরের বৃষ্টির পানি নামানোর জন্য পাম্পগুলো চালু রাখতে হয়েছে এবং এখনও রাখতে হবে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির ড্রেনেজ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মাদ আশরাফুল আলম জানান, রামপুরার ৫টি পাম্পের মধ্যে ২ নম্বর স্পটের পাম্পটির শ্যাফট আগেই ভাঙা ছিল। সেটা মেরামত অযোগ্য। আর পাম্প স্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৬ নম্বর স্পটে নতুন একটি পাম্প স্থাপন করা হবে। তাতে খরচ হবে ২৪ কোটি টাকা। তাছাড়া অন্য সব পাম্পের অবস্থাও খারাপ। পর্যায়ক্রমে সবই পরিবর্তন করতে হবে। গত বছর ৫টি পাম্পের মধ্যে মাত্র ২টি চালু করা গেছে। ওই বছর ভারী বৃষ্টিপাত হলে বিপদ ছিল। জার্মানিভিত্তিক এবিবি কোম্পানির বিশেষজ্ঞ এনে ৫ কোটি টাকা খরচ করে দুটি পাম্প চালু করা হয়েছিল। ওয়াসা মূলত নিম্নমানের যন্ত্রপাতি পাম্প স্টেশনে ব্যবহার করেছে। এবার কম আরপিএম ও অধিক কার্যক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প কেনার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পাম্পের রিটেনশেন পন্ডে পানির লেভেল ৪.৬ থেকে ৪.৮। যা বিপৎসীমার কাছাকাছি।

আরও পড়ুন
পরাণ-দামালের পর আবারও মিম-রাজ জুটি
তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলায় বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে ক্রিকেটারদের ক্ষোভ
প্রথম বোলার হিসেবে বিপিএলে দুবার হ্যাটট্রিক মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর