Sunday, November 13th, 2022, 6:24 pm

বয়স্ক ভাতার টাকা দেন না মেয়ে, বাবার রাত কাটে অন্যের ভাঙা ঘরে

মোঃ আবু রায়হান, শেরপুর প্রতিনিধিঃ

নাম আবুল কাদের মুন্সী। বয়স ১০৪ বছর। প্রায় ১৫ বছর আগে স্ত্রী জামেলা বেগম মারা গেছেন। তারঁ এক ছেলে দ্ইু মেয়ে। দুই মেয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে থাকেন ঢাকায়। ছেলেও বাবাও খোঁজ খবর নেন না। জীবনের শেষ বয়সে এসে রাত কাটাতে হচ্ছে অন্যের ভাঙা ঘরে।

আবুল কাদের মুন্সী শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের উত্তর হালুয়াহাটি ৬নং ওয়ার্ডের মৃত করিম মোল্লার ছেলে। পেশায় ছিলেন মুদি দোকানদার ।

স্থানীয়রা জানান, আবুল কাদের মুন্সীর এক ছেলে। তিনি পাশর্^বর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার দুধনই গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তার সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী। ফলে বাবার তেমন খোঁজ-খবর নেন না। দুই মেয়ে ঢাকায় স্বামীর সঙ্গে গার্মেন্টসে কাজ করেন।

আবুল কাদের মুন্সীর এমন দুরাবস্থা দেখে এলাকার কিছু যুবক টাকা উঠিয়ে অন্যের জমিতে একটা ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। সেই ঘরও ভেঙে গেছে। আবুল কাদের মুন্সীর বয়স্ক ভাতার কার্ড থাকলেও নিজের মোবাইল ফোন না থাকায় বয়স্ক ভাতার টাকা ছোট মেয়ে মিনারা বেগমের বিকাশ নম্বরে আসে। কিন্তু মেয়ে গত পাঁচ বছর ধরে আসা টাকা বাবাকে দেয় নি। এমনকি বাবার কোনো খোঁজ-খবর নেই না।

স্থানীয় সফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক কষ্টে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে আবুল কাদের মুন্সীর জীবন-যাপন করছে। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ কেউ তার খোঁজ নেয় না।

মেয়ে মিনারা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেশী রাসেল মিয়া জানান, বৃদ্ধ আবুল কাদের মুন্সী অবস্থা আশংকা জনক। তার খোঁজ-খবর নেওয়াও কেউ নেই। তার মেয়ে বয়স্ক ভাতার টাকা তাকে দেয় না।

আরেক প্রতিবেশী নাজমুল হোসেন জানান, বৃদ্ধর অবস্থা খুবই খারাপ। তার তিন ছেলে-মেয়ে থাকার পরও কেউ নেই তার পাশে।

রাণীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগ বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না। আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি নিজে না পারলে এলাকার বিত্তবানদের মাধ্যমে তাকে যথেষ্ট সাহায্য করার চেষ্টা করব।

এব্যাপারে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুছ জানান, আমাকে বিষয়টি কেউ জানায়নি। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।