Monday, February 13th, 2023, 9:48 pm

ভারত-ভুটানের ট্রানজিট চুক্তি কার্যকরে গতি পাবে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পর সবচেয়ে কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশ ও ভুটানের।

স্থলপথে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে শেরপুর জেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দর হয়ে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর দুরত্ব মাত্র ৪০০ কিলোমিটার।

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে মধুর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে কিছু কিছু পণ্য নিয়ে আগ্রহ থাকলেও এত কাছাকাছি দুরত্বের হলেও ভারতের সঙ্গে ভুটানের ট্রানজিট সমস্যার কারণে স্থলপথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক তেমন এগুচ্ছে না।

তবে ভারতের সঙ্গে ট্রনজিট সমস্যা সমাধানের দৌড়গোড়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিচেন কুইনস্টুল।

১৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে এমন আশার বানী শুনালেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে। এতে ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

এছাড়া ভারত-ভুটান ট্রানজিট চুক্তি কার্যকরে গতি পাবে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরসহ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর দিয়ে গার্মেন্টস পণ্য নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে ভুটান। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে ভূটানের রাষ্টদূত রিচেন কুইনস্টুল শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দর পরিদর্শনে আসেন। এসময় তিনি ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন বৈরিতা নেই বলে জানান।

এখন শুধু ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি অনুমোদন হলেই গার্মেন্টস পণ্য সহ অন্যান্য পণ্য ভুটান আমদানী করতে পারবে।

বন্দর পরিদর্শন শেষে ভুটানের রাষ্ট্রদূত স্থানীয় আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যাবসায়ীরা ভুটান থেকে পণ্য আমদানি ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস পণ্যের পাশাপাশি শুটকি মাছ ও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এ সময় বাংলাদের কাস্টমস কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী, ভুটান দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সেলর (ট্রেড) কেনচো থাইলোসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভুটান রাষ্ট্রদূত জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক-ব্যবসায়ীক বিষয়ে বেশকিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ভুটান থেকে ১৮টি পণ্য আমাদানি করার অনুমতি আছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ১০টি পণ্য ভুটানে যাচ্ছে।

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এবং ভুটান বন্ধু দেশ। এছাড়াও আমরা চেষ্টা করছি এই দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিকৃত সকল পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

এছাড়াও বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়ী চুক্তিগুলোও দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, নাকগাঁও স্থলবন্দর নিয়ে ভুটানের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এ বন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিট চুক্তি কার্যকর হলে বন্দরের গতিশীলতাও অনেক বাড়বে।

কাস্টমস কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের তিনটি এলসি পয়েন্ট দিয়ে ভুটান বাংলাদেশে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করবে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার এলসি পয়েন্ট লো হলো নাকুগাঁও, গোবরাকুড়া ও করাইতলি।

ভুটান বাংলাদেশ থেকে প্রধান পণ্য হিসেবে তৈরি পোশাক আমদানি করতে চায়। এর বিপরীতে পাথর, ফলসহ তাদের তৈরি পণ্য রপ্তানি করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী সর্বোতভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন যেন নির্বিঘ্নে এই কার্যক্রম করা যায়।

ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত পণ্যের ১৯ টি তালিকার বাইরেও পর্যায়ক্রমে আরও পণ্য রপ্তানি বাড়বে।

নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, বাংলাদেশ থেকে তিনটি পণ্য আমদানি করার জন্য রাষ্ট্রদূতকে আমরা অনুরোধ করেছি।

পণ্যগুলো হলো-শুঁটকি মাছ, প্লাস্টিক পণ্য ও তৈরি পোশাক। এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদনও দেয়া হয়েছে। ভুটানের সঙ্গে সরাসরি পণ্য আমদানি-রপ্তানি চালু হলে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের গতিশীলতাও অনেক বাড়বে।

সরকারের রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিনের দুয়ার খুলবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত সোনাম এল রাবগী শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন।

তখন তিনি স্থলবন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কী ধরনের সম্ভাবনা আছে তা নিয়ে আলোচনা ও সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলেন।

—-ইউএনবি