অনলাইন ডেস্ক :
২০০৪ সালে স্থানীয় এক জনসভায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা ও গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার। এরপর বিচারিক আদালতে রায়ের পর মামলাটি হাইকোর্টেও শুনানি হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় প্রদান করেন। সে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে পৃথক পৃথক আপিল আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিরা। এরপর আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় মামলাটি প্রায় সাত বছর ধরে ঝুলে আছে। মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার পরদিন আহসান উল্লাহ মাস্টারের ভাই মতিউর রহমান টঙ্গী থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এরপর বিচার শেষে ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালত নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদ- এবং ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ ও দু’জনকে খালাস দেন। পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স আসে। পাশাপাশি আসামিদের পক্ষ থেকে জেল আপিল করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৫ হাইকোর্টের রায় ঘোষণা করা হয়। মামলার রায়ে ছয় জনের ফাঁসি বহাল রাখা হয়। এই মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে নিম্ন আদালতে মোট ২৮ জনের দ- হয়। এর মধ্যে ২২ জনের মৃত্যুদ- ও ছয় জনের যাবজ্জীবন কারাদ- হয়। এসব আসামির মধ্যে ১৭ জন কারাগারে ও ৯ জন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া দুজন মারা গেছেন।
এদিকে আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে খালাসপ্রাপ্ত ১১ জনের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। খালাস পাওয়া ১১ আসামি হলো- আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল (পলাতক), লোকমান হোসেন ওরফে বুলু, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির (পলাতক), খোকন (পলাতক), দুলাল মিয়া, রাকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর (পিতা মেহের আলী) ও মনির। ১১ জনের মধ্যে তিন আসামি পালাতক রয়েছেন যারা মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত।
হাইকোর্টের সে রায়ের বিরুদ্ধে খালাসপ্রাপ্তদের সাজা এবং এক আসামির সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর থেকে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিদের করা পৃথক পৃথক আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মামলাটি শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনিবলেন, মামলা কার্যতালিকায় এলে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে চলতি বছরেই মামলাটির শুনানি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী ড. সাইফুদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, আপিল আবেদনগুলো শুনানির জন্য কার্যতালিকায় উঠেছে। আশা করছি চলতি বছরেই শুনানি শুরু করা সম্ভব হবে।


আরও পড়ুন
যুদ্ধ বন্ধে তিন শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ
সংসদের দর্শকসারিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে ড. ইউনূস
সংসদ সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান খন্দকার মোশাররফের