Sunday, December 28th, 2025, 3:55 pm

কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন হতে দেওয়া হবে না: মির্জা ফখরুল

 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি একটি বিষয়ে স্পষ্টভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ—এই দেশে কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন প্রণয়ন করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।’ যারা বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা বলে আমরা নাকি কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আইন চাই না—নাউজুবিল্লাহ। আমরা সবসময় কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যেই থাকতে চাই।’

রোববার ঠাকুরগাঁওয়ের মানব কল্যাণ পরিষদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান দেশে ফেরার পর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁর বক্তব্যে বারবার ইসলাম ও আল্লাহর কথা উঠে এসেছে, যা আলেম-ওলামাদের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের বংশ ও রক্তে ইসলাম রয়েছে। আমি একজন মুসলমান—এ নিয়ে আমি গর্বিত। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা শান্তি চাই। নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে আমি শান্তিতে ইবাদত ও ধর্মচর্চা করতে পারব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারব। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

চরমোনাই পীরের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তার মধ্যে একটি ছিল কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আইন ব্যবস্থা।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এসব উদ্যোগের মধ্যে থাকবে মাসিক সম্মানী প্রদান, ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, ১৯৯৩ সালের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সারা দেশে সম্প্রসারণ, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা এবং তাঁদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধির ব্যবস্থা।

তিনি আরও জানান, একই ধরনের সুবিধা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে এবং মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ এলাকার অন্যান্য উন্নয়ন দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন বিএনপির মহাসচিব।

নিজের বয়সের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই নির্বাচনই হয়তো আমার শেষ নির্বাচন। বয়স হয়ে গেছে—এরপর আর নির্বাচন করা সম্ভব হবে কি না জানি না।’

দেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, ‘কিছু মহল পেছন থেকে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, যেন বিভাজন সৃষ্টি না হয় এবং ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে আমরা না পড়ি। এই নির্বাচনকে ভাঙচুর করার চেষ্টা চলছে—সেদিকে নজর রাখতে হবে।’

সভায় স্থানীয় আলেম-ওলামা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনএনবাংলা/