কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক দুইটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে এবং অন্তত পাঁচটি বসতঘর ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (ভোর) উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের মধুরছড়া এলাকার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকে অবস্থিত একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এই অগ্নিকাণ্ডে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (রাত ১০টার দিকে) কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকে আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচটি বসতঘর পুড়ে যায়।
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দাতব্য সংস্থা ‘ওবাট হেলপারস ইউএসএ’ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ‘ওবাট হেলথ পোস্ট’ নামে চালু করে। বর্তমানে ক্যাম্প প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং হিউম্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ–এর অর্থায়নে এটি পরিচালিত হচ্ছিল।
ওবাট হেলপারস বাংলাদেশের হেলথ কো-অর্ডিনেটর চিকিৎসক মাহামুদুল হাসান সিদ্দিকী রাশেদ জানান, আগুনে পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুড়ে গেছে। আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। এই কেন্দ্র থেকে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতেন।
স্থানীয়দের কাছে ‘মালয়েশিয়া হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আশ্রিত রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক বলেন, এটি ছিল তাদের জন্য চিকিৎসার অন্যতম ভরসা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, একটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করেছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান বাংলাদেশের
বিহারের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশি ৪ সাংবাদিক
হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন বিএনপি প্রার্থীর