Wednesday, January 14th, 2026, 1:24 pm

এলপিজি বাজারে অস্থিরতা কমাতে আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বিপিসি

 

দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে চলমান তীব্র সংকট নিরসন এবং বাজারে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বিপিসি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দাম কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানি করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ করাই বিপিসির মূল লক্ষ্য।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান গত ১০ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সরবরাহ সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক বেসরকারি অপারেটর নিয়মিত আমদানি করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যার সুযোগ নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

চিঠিতে তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করে এই বণ্টন কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে জানান, সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। তিনি বলেন, ভোক্তাদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে সরকার আপাতত কেবল আমদানির দায়িত্ব নেবে, তবে সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বিপিসি আমদানিতে যুক্ত হলে ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং খাতের চলমান অস্থিরতা অনেকটাই দূর হবে।

বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা ৩০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম সতর্ক করে বলেন, বিপিসি আমদানিকৃত গ্যাস যদি সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা না করে, তাহলে বাজারের মূল সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে।

বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাস্তবে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি উৎস থেকে এলপিজির সরবরাহ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি পাওয়ার আশা করছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ