ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজন করা না গেলে বাংলাদেশ আবারও একই বৃত্তচক্রে আটকে পড়বে এবং কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জনগণের একটি যৌথ অঙ্গীকার। প্রায় নয় মাস ধরে টানা আলোচনার মাধ্যমে ৩০টি রাজনৈতিক দল এই এজেন্ডা তৈরি করেছে। ফলে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বর্তায়। এটি কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিষয় নয়; বরং অগণিত শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি পথনকশা।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে—বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী বা জমিদারতান্ত্রিক শাসন কায়েম হতে পারবে না। ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার জন্য নির্বাচন অপরিহার্য।’
আলী রীয়াজ বলেন, ‘যদি আমরা ন্যায়বিচার, সংস্কার এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, তাহলে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। গণভোট, নির্বাচন কিংবা সংবিধান সংস্কার—সব ধরনের ক্ষমতার উৎস জনগণই।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেউ অস্বীকার করলেও বাস্তবতা হলো—এই নির্বাচন আগের ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নয়। কারণ এটি চব্বিশের মতো একটি ঐতিহাসিক ঘটনার পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’
তার ভাষায়, ‘এই নির্বাচনের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক রূপে পৌঁছাতে পারবে কি না। অতীতের নির্বাচনগুলো গণতন্ত্রের স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি। এই নির্বাচন ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ আবারও এমন এক বৃত্তচক্রে পড়বে, যা গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছু মৌলিক সংস্কার এজেন্ডা নির্ধারণের লক্ষ্যে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। বিদ্যমান সংবিধান ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। এই সংবিধান অপরিবর্তিত রেখে এগোলে বাংলাদেশ আবারও ভুল পথে হাঁটতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ নয় মাস ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর একসঙ্গে বসার পেছনেও মূল কারণ ছিল বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির। এছাড়া ইনস্টিটিউটের ডিস্টিংগুইসড ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান বক্তব্য রাখেন। সার্ভে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক। আলোচনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছি না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
আওয়ামী লীগ ভোটের পরিবেশ নষ্ট করলে কঠোর ব্যবস্থা: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
উত্তরা কাঁচাবাজারে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ ইউনিট