রমজান সামনে রেখে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ঝুঁকিতে রয়েছে।। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ছয় বড় আমদানিকারক—আকিজ, নাবিল, টিকে, মেঘনা, সিটি ও বসুন্ধরা গ্রুপ—ভাসমান গুদাম হিসেবে প্রায় ৬০০ লাইটার জাহাজে ১০ লাখ টনেরও বেশি খাদ্যপণ্য আটকে রেখেছে। গম, ভুট্টা, ছোলা, ডাল, সয়াবিন ও চিনি ঘাটে নামার বদলে জাহাজেই ভাসছে, ফলে লাইটার জাহাজের তীব্র সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে ১৭৬টি মাদার ভেসেল নোঙর করা রয়েছে, যার মধ্যে ৬১টিতে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। লাইটার জাহাজে খালাস না হওয়ায় রমজানের আগে বাজারে পণ্যের ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত, স্বাভাবিক অবস্থায় একটি লাইটার জাহাজ ১৫ দিনের মধ্যে খালাস সম্পন্ন করে পরবর্তী ট্রিপের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু বর্তমানে অনেক জাহাজ ৩০ থেকে ৪০ দিন ধরে নদী ও সাগরে ভাসছে। এই লাইটার সংকটের কারণে নতুন আমদানি খালাস করতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রামে মোট ৬৩১টি লাইটার জাহাজ আটকে আছে, যার মধ্যে ৫১টি সরকারি সার পরিবহনে নিয়োজিত। ১০২০ লাইটারের মধ্যে প্রায় ৭২০টি ইতিমধ্যেই লোড অবস্থায় নদী ও সাগরে ভাসছে। এর মধ্যে এমএসটি মেরিন এন্টারপ্রাইজ, সমতা শিপিং, মডার্ন লজিস্টিকস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাইটার আটকে আছে।
ভাসমান গুদামের মূল কারণ
সূত্রের মতে, গত ১০ বছর ধরে আমদানিকারকরা নিজস্ব বা ভাড়া করা গুদামের বদলে লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে খরচ কম পড়ে এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নজর এড়ানো সম্ভব হয়। এই পদ্ধতি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পদক্ষেপ
নৌপরিবহন অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ছয় আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে লাইটার ভাসমান রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে পণ্য খালাস করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী জানান, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে লাইটার জাহাজে পণ্য আটকে রাখলে নিয়মিত মামলা করা হবে।
এর আগে গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত এমভি সিদ্দিক আহমেদ-৩ ও এমভি আরজে-১ নামের দুটি লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহারের দায়ে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। অভিযানে গম, ভুট্টা, জিপসাম ও ফ্লাই অ্যাশ বহনকারী ২৭টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়। এসব জাহাজে থাকা মালামালের আমদানিকারক নাবিল গ্রুপ, মদিনা গ্রুপ, এসএস ট্রেডিং, এন মোহাম্মদ, শবনম ও টিকে গ্রুপের প্রতিনিধিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাসের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রমজান বাজারে প্রভাব
মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে বিলম্বের ফলে বাজারে সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকছে। বিশেষ করে রমজানকে সামনে রেখে গম, ভুট্টা, ছোলা, ডাল, সয়াবিন ও চিনি সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
১৪ বছর পর ঢাকা–করাচি ফ্লাইট শুরু কাল, উদ্বোধনী টিকিট ফুরিয়ে দ্বিতীয় ফ্লাইটেও ৮০% বুকিং
চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩০
পাসপোর্ট-ভিসা জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন: ড. ইউনূস