ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে।
শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ইভার্স ইজাবস জানান, ২০০৮ সালের পর এবারই প্রথম নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত এ নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান জানায়। তবে বিক্ষিপ্ত কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবিত বা কারসাজি করা অনলাইন বর্ণনার মাধ্যমে উসকে দেওয়া হয়েছে—যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং অংশীজনদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মিশনের মূল্যায়নে দেখা গেছে, বিদ্যমান নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার উপযোগী, আর ২০২৫ সালের সংশোধনীগুলো অন্তর্ভুক্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার করেছে। তবুও আইনি নিশ্চয়তা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি দূর করতে অতিরিক্ত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
ইইউ মিশনের প্রধান আরও উল্লেখ করেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ও অন্যান্য অংশীজনের সহায়তায় কমিশন স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করেছে, গণমাধ্যমের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দিয়েছে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ অব্যাহত রেখেছে।
নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ইভার্স ইজাবস বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ মাত্র ৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন অনেক নারী। জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি স্পষ্ট। রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের প্রান্তিক করার পুরোনো সংস্কৃতি পরিত্যাগ করার এখনই সময়। প্রচারণাকালে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিশেষ করে নারী প্রচারকদের লক্ষ্য করে হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে।
মিশনের তথ্যানুযায়ী, প্রচারণা ঘিরে অন্তত ৫৬টি সহিংস ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে শারীরিক হামলা ও প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনাও রয়েছে। অনলাইন প্রোপাগান্ডা ও বিকৃত তথ্য রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দিতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভুল তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর পদক্ষেপ ছিল ধীরগতির।
এ ছাড়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণকেও হতাশাজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনকালে রাজনৈতিক নেতাদের ধৈর্য ও শান্ত আচরণকে স্বাগত জানিয়ে ইইউ বলেছে, নতুন সরকারকে মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমর্থকদের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। গণতান্ত্রিক নির্বাচন ও সুশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আরও উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করা হয়।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
দেশ গড়তে ঐক্যের ডাক তারেক রহমানের
ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি হবে বিরোধী দল থেকে
ফলাফল মেনে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের