February 14, 2026
Saturday, February 14th, 2026, 3:48 pm

ফলাফল মেনে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

 

নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দল সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং আইনের শাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের আস্থা অর্জন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠিত ও প্রস্তুত থাকা। শুরু থেকেই দল একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে ছিল এবং সেই অবস্থানে এখনও অটল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, গত কয়েক মাসে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থক অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। অনেকেই সময়, শ্রম ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন; কেউ কেউ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখেও পড়েছেন। তাদের সাহসিকতা দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আদর্শের জন্য সংগ্রাম করলে ফলাফল হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দিতেই পারে। তবে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। ৭৭টি আসন নিয়ে দলটি সংসদে নিজেদের উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বাড়িয়েছে এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী বিরোধী ব্লক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। ২০০৮ সালে বিএনপি ৩০টি আসনে নেমে এলেও দীর্ঘ ১৮ বছরের পথ পেরিয়ে ২০২৬ সালে সরকার গঠন করেছে। সুতরাং ধৈর্য, সংগঠন ও জনআস্থা অর্জনের মধ্য দিয়েই সামনে এগোতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের আন্দোলন কেবল একটি নির্বাচনকেন্দ্রিক ছিল না; বরং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি জোরদার, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ছিল। সংসদে তারা নীতিনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

দেশে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ সদ্য তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে; তাই নতুন করে কোনো স্বৈরাচার, রাষ্ট্রীয় শক্তি বা দলীয় প্রভাবের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি গ্রহণযোগ্য হবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করার ওপরও জোর দেন তিনি।

একই সঙ্গে নির্বাচিত এমপি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেন। ছবি ও ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া এবং প্রয়োজনে গণমাধ্যমে তা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট কোনো অবাধ লাইসেন্স নয়; এটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের শর্ত হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের দল ও কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।

সবশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, শান্তিপূর্ণ ও নীতিভিত্তিক রাজনীতির প্রতি তাদের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে। তবে এই অঙ্গীকারকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

এনএনবাংলা/পিএইচ