Sunday, March 1st, 2026, 5:05 pm

সিআইএ ও ইসরায়েল মিলে যেভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে চালানো অভিযানের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা সমন্বয় হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই সিআইএ খামেনির অবস্থান, চলাফেরা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য আরও স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে। শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়, যাতে একযোগে একাধিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা যায়।

ওই কমপ্লেক্সেই তেহরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় অবস্থিত। ইসরায়েলি পক্ষের ধারণা ছিল, সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

অভিযান শুরু হয় ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে। যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে। বিমানসংখ্যা সীমিত থাকলেও লক্ষ্যভেদে সক্ষম অস্ত্র ব্যবহারের কারণে হামলাকে কার্যকর বলে মনে করা হয়। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্দিষ্ট কমপ্লেক্সে আঘাত হানে।

একই সময়ে কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষ কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন এবং খামেনি পাশের আরেকটি ভবনে ছিলেন বলে জানা যায়। ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একাধিক স্থানে সমন্বিতভাবে হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও ইসরায়েল কৌশলগত চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

হোয়াইট হাউস ও সিআইএ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। অভিযানে জড়িত সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘ মাসের প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়েই এ হামলা সম্ভব হয়েছে।

গত বছরের ১২ দিনের সংঘাত চলাকালে খামেনি ও আইআরজিসির যোগাযোগ ও চলাচলের ধরন সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছিল। সাম্প্রতিক অভিযানে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্দিষ্ট তথ্য জোগাড় করেছিল।

হামলার পর ইরানের এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরে যেতে সক্ষম হলেও দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

এনএনবাংলা/পিএইচ