যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্বব্যাপী শিয়া সম্প্রদায়ের একজন প্রভাবশালী নেতাকে হত্যার ঘটনা বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট যুদ্ধ ঘোষণা। তিনি আরও বলেন, খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অধিকার এবং কর্তব্য।
দাবি করা হয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান চালিয়ে খামেনিকে হত্যা করে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের একটি গোপন বৈঠক চলাকালে এ হামলা পরিচালিত হয়।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা রাতের দিকে হওয়ার কথা থাকলেও বৈঠকের সময় পরিবর্তনের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান এগিয়ে আনা হয় বলে মার্কিন সূত্রের দাবি। তাদের ভাষ্য, খামেনি আত্মগোপনে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে প্রথম লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইরানি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হামলার সময় খামেনি প্রতিরক্ষা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি–এর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের দাবি—এই অভিযানে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর–সহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
ইরানের নতুন নেতৃত্ব আলোচনায় রাজি, আগ্রহী ডোনাল্ড ট্রাম্প
টেক্সাসের পানশালায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ আহত ১৪
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নিহত