Monday, March 2nd, 2026, 4:05 pm

সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ‘রাস তানুরা’ বন্ধ করলো সৌদি আরব

 

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো তেহরানের প্রত্যাঘাতমূলক হামলার প্রেক্ষিতে রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধ করেছে, জানিয়েছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান শুরু করা এই প্রতিঘাতের ঘটনাটি এখন তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে।

রাস তানুরা কমপ্লেক্স সৌদি আরবের উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল শোধনের সক্ষমতা রয়েছে। এটি সৌদি অপরিশোধিত তেলের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শোধনাগার বন্ধ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল আরাবিয়া টিভি-কে জানিয়েছেন, দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ থেকে ছোটখাটো আগুন লাগে, তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধের ফলে তেল সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। সম্প্রতি জাহাজে হামলার পর এই পথের চলাচলও প্রায় থমকে গেছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ টরবিয়র্ন সল্টভেডট বলেন, “রাস তানুরা শোধনাগারে হামলা বড় ধরনের উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন উপসাগরের জ্বালানি অবকাঠামো সরাসরি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এটি সৌদি আরব এবং প্রতিবেশী দেশগুলিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।”

আরামকো এখনও এ ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলো অতীতে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবকাইক অয়েল ফ্যাসিলিটি এবং খুরাইস অয়েল ফিল্ড-এ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, যা দেশটির অর্ধেকের বেশি তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল এবং বিশ্ববাজারে বড় অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল।

এনএনবাংলা/পিএইচ