Monday, March 2nd, 2026, 6:54 pm

জার্মানির যৌথ অভিযানে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত, ঘাঁটি ব্যবহারে অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

 

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে ইরানের আঞ্চলিক হামলা বন্ধ না হলে দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে জার্মানি। এমন তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর রেডিওকে জার্মানির রাজনৈতিক ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আঞ্চলিক দেশগুলোতে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে বার্লিন ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের সঙ্গে যৌথ পদক্ষেপে অংশ নিতে পারে।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্যরা রেডিওটিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এতে বিমান হামলায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামরিক ও আকাশপথে সহায়তার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ফ্রান্স-জার্মানি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সতর্কবার্তা

এর আগে রোববার ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র এক যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলার নিন্দা জানায়। তারা সতর্ক করে বলে, প্রয়োজন হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের ও মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারে ব্রিটিশ অনুমতি

এদিকে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, ইরানে প্রতিরক্ষামূলক হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরাক যুদ্ধের ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষা বিবেচনায় যুক্তরাজ্য সরাসরি ইরান সংঘাতে জড়াবে না।

স্টারমার বলেন, “মিত্রদের সম্মিলিত আত্মরক্ষা এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষার তাগিদে মার্কিন অনুরোধে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বিবিসির ধারণা, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করবে।

ভিডিও বার্তায় স্টারমার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করবে। লক্ষ্য থাকবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে উৎক্ষেপণস্থলেই ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, এই অনুমতি আন্তর্জাতিক আইন মেনেই দেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/