Tuesday, March 3rd, 2026, 7:03 pm

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিশেষ ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

 

রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য উদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের অনুকূলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ঋণ সুবিধা দিতে হবে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ ঋণ পাবে। ঋণ পরিশোধে তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ এক বছরের সময় দেওয়া হবে। ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক সুদহার প্রযোজ্য হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঋণের অর্থ উদ্যোক্তাদের হাতে সরাসরি দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে সরাসরি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার অর্থ পাঠাবে। নিয়মিত সুদ ছাড়া অতিরিক্ত কোনো সুদ, মুনাফা, ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে

সার্কুলার অনুযায়ী—

  • যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে, তারা রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।
  • যেসব প্রতিষ্ঠান গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে, তাদের ‘সচল’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
  • সচল ও রপ্তানিমুখী হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন—যেমন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)—এর প্রত্যয়নপত্র দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।
  • ঋণের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসে প্রদত্ত গড় বেতন-ভাতার বেশি হবে না। এ ঋণ চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে ‘মেয়াদি ঋণ’ হিসেবে দেওয়া হবে এবং ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ড শেষে মাসিক বা ত্রৈমাসিক সমকিস্তিতে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে উদ্যোগ

এর আগে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসন্ন ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিশেষ ঋণ সুবিধা চায়। তৈরি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, রপ্তানি আয় নিম্নমুখী হওয়া এবং তারল্য সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে বেতন পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের আন্দোলন ও অসন্তোষ বাড়ছে।

কেন এ সিদ্ধান্ত

সার্কুলারে বলা হয়, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া, ধারাবাহিক রপ্তানি আয় হ্রাস, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং তারল্য সংকটের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে।

উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা, রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখা এবং দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ণ রাখতে সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করতেই এ বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এনএনবাংলা/