ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সন্তান ও আলোচিত রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি-এর জীবনী সম্প্রতি মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নিবন্ধে তার জীবন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদি ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসা-তে সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শিক্ষকতা, লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসভা ও বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি জুলাই শহীদদের অধিকার রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থান, এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলন-সহ একাধিক ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর, জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্টের কাছে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানকার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাবেয়া ইসলাম সম্পাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন এবং তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকায় কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
নিবিড় পর্যবেক্ষণে মির্জা আব্বাস, সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে রবিবার
যুদ্ধের প্রভাবে শাহজালালে ৪৭৫ ফ্লাইট বাতিল, আজও ২৪টি
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হবে ৫০ ঘণ্টা