Saturday, April 18th, 2026, 4:10 pm

এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভারতে পলাতক) তাকে নানা ধরনের লোভ দেখিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তিনি বলেন, যদি তিনি তখন শেখ হাসিনার কথা মেনে নিতেন, তবে তার পরেই নিজের অবস্থান হতো।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এমন কোনো লোভ ছিল না, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি। আমি যদি তার কথা শুনতাম, তাহলে তার পরেই আমার অবস্থান হতো। কিন্তু আমি বলেছি, আমার বয়স এখন ৮০ বছর—এ ধরনের কিছু করার সময় আর নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়া পরিবারের বাইরে কোনোদিন আমার চিন্তা-চেতনা ছিল না। আমি জীবনে এককভাবে পথ চলেছি। যখন যেটা সত্য মনে হয়েছে, সাহস করে তা বলেছি। এ কারণে অনেকে নানা ধরনের কথা বলেছে, এমনকি আমাকে দল ত্যাগ করে চলে যেতে বলেছে। মাফিয়া হাসিনাও বহুবার চেষ্টা করেছেন।’

জেনারেল জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি নিজের আনুগত্যের কথাও তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে আমি যুদ্ধ করেছি এবং বেগম জিয়া আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমি সব সময় জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়ার প্রতি অনুগত ছিলাম।’

তিনি বলেন, বিএনপিতে দীর্ঘদিন সিনিয়র হলেও অনেকেই তাকে অতিক্রম করে উচ্চপদে গেছেন। ‘আমি এই দলের অনেক সিনিয়র ছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে ক্রস করে ওপরে চলে গেছে এবং আমার আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছে। একমাত্র ড. মোশাররফ হোসেন ছাড়া সবার সিনিয়র ছিলাম আমি। তারপরও স্থায়ী কমিটিতে স্থান হয়নি। তবে এসব বিষয় নিয়ে আমি কখনো মাথা ঘামাইনি,’ বলেন তিনি।

নিজের নির্বাচনী এলাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নজর ছিল এলাকার জনগণ যেন আমাকে ভোট দেয় এবং আমি যেন জাতীয় সংসদে যেতে পারি। এবারও ভোট দেওয়ার পর মানুষ আশা করেছিল আমি যেন একটি প্ল্যাক নিয়ে আসতে পারি। আল্লাহর রহমতে আমি দুইটি প্ল্যাক নিয়ে এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, ‘আমি বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে গভীর কৃতজ্ঞ। জীবনে তার সঙ্গে আমি মাত্র দুই দিন কথা বলেছি। এর বাইরে কোনোদিন টেলিফোনে কথা হয়নি, দেখা হয়নি। তারপরও তিনি আমাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে অভিহিত করেছেন। এজন্য আমি তার কাছে এবং আমার দল বিএনপির কাছে কৃতজ্ঞ।’

এ মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রাইসুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ