শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ধর্মপাশা উপজেলায় ২ জন, জামালগঞ্জ ১ জন, তাহিরপুরের ১ জন ও দিরাই উপজেলায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— ধর্মপাশা উপজেলার হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩), তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮), দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার নূর জামাল (২২)।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হবিবুর রহমান শনিবার সকালে তার চাচার সঙ্গে টগার হাওড়সংলগ্ন চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে বজ্রপাতে হবিবুরসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে ধর্মপাশা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। হবিবুর রহমান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এদিকে একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর ইসলামপুর গ্রামে দুপুর ১টার দিকে আকস্মিক বজ্রপাতে জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ (১৩) এবং শিখা মনি (২৫) গুরুতর আহত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক রহমত উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত জয়নাল হক ও শিখা মনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রহিস মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে তাহিরপুর উপজেলার জামলাবাজ গ্রামে দুপুর ১২টার দিকে আকস্মিক বজ্রপাতে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) মারা যান এবং নুর মোহাম্মদ (২৪) গুরুতর আহত হন। নিহত কালা মিয়া সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। তিনি একটি হাঁসের খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আহত নুর মোহাম্মদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃষ্টিহীন অবস্থায় হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে।
এছাড়া দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে কৃষক লিটন মিয়া (৩৮) শনিবার দুপুর ১টার দিকে কালিয়াগোটার (আতরার) হাওড়ের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নূর জামাল (২২) নামে আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি চানপুর গ্রামের আমীর আলীর ছেলে। একই ঘটনায় তোফাজ্জল হোসেন (২৩) গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
কুলাউড়ায় তিন প্রেসক্লাবকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিলেন এমপি শওকতুল ইসলাম
পাবলিক পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ প্রথা থাকছে না: শিক্ষামন্ত্রী
তেল দিতে দেরি হওয়ায় নাটোরে ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর, বিক্রি বন্ধ