আমদানি করা জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার এই সময়ে দেশে মজুত থাকা গ্যাস দিয়ে বাংলাদেশ আর কত বছর চলতে পারবে—এ প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ দেশের জ্বালানি খাত এখনো মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালিতে গ্যাসের ব্যাপক ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করে আসছে। তবে এই অতিরিক্ত নির্ভরতা এখন নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্যাস মজুতের বর্তমান অবস্থা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত মোট আবিষ্কৃত গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৩৯ থেকে ৪১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য হিসেবে ধরা হয় প্রায় ২৮ থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ইতোমধ্যে এর প্রায় ২০ থেকে ২২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার হয়ে গেছে। ফলে বর্তমানে অবশিষ্ট মজুত রয়েছে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩২০০ থেকে ৩৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহৃত হয়। এই ব্যবহার হার অব্যাহত থাকলে বর্তমান মজুত দিয়ে আরও প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিকল্প ও আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা
জ্বালানি তেলের সংকট ও আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকি বিবেচনায় বিকল্প প্রযুক্তির বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্যাস টু লিকুইড (GTL) পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে ডিজেল বা পেট্রোলের মতো তরল জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব। কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত জ্বালানি তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও পরিবেশবান্ধব। প্রতি লিটার জ্বালানি উৎপাদনে আনুমানিক ৭০ থেকে ১২০ টাকা খরচ হতে পারে। তবে এ প্রযুক্তি বাস্তবায়নে বড় ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং উচ্চমাত্রার বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়।
বিদ্যমান গ্যাসের দক্ষ ব্যবহারের প্রয়োজন
বর্তমানে দেশে সরাসরি গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সিএনজি ব্যবহারের কার্যকারিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তেলচালিত যানবাহন গ্যাসে রূপান্তর করলে জ্বালানি ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। যদিও এতে ইঞ্জিনের শক্তি কিছুটা কমে যেতে পারে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকিও থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে বিদ্যমান গ্যাসের দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সিএনজি ও এলপিজি ব্যবহারের প্রসার, শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়াই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান।
কারণ বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে দেশে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই সুপরিকল্পিত ও বহুমুখী জ্বালানি কৌশল গ্রহণ করে বিদ্যমান গ্যাসের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
যারা সংস্কার সংস্কার করে তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে না
জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে: রিজভী
নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ