Monday, April 20th, 2026, 5:19 pm

বোতলজাত সয়াবিনের সংকট, স্বস্তি নেই খোলা তেলেও

 

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট শুরু হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। আগে দোকানগুলোতে বিভিন্ন অপরিচিত ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল দেখা গেলেও এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। পরিচিত ব্র্যান্ডের তেলও চাহিদা অনুযায়ী খুবই সীমিত পরিমাণে মিলছে।

এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ দোকানি তাদের পছন্দের ও পরিচিত ক্রেতাদের ধরে রাখতে লুকিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন। অপরিচিত ক্রেতাদের অনেক ক্ষেত্রে তেল না থাকার কথা জানানো হচ্ছে, যদিও দোকানে অল্প পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে। এই সুযোগে খোলা সয়াবিন তেল বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ঈদুল ফিতরের আগেই বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ঈদের পর গত কয়েক দিনে সেই দাম আরও বেড়ে বিভিন্ন বাজারে ন্যূনতম ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি ২২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেল আগের নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা প্রতি লিটারেই বিক্রি হচ্ছে। তবে পছন্দের ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেল পাওয়া এখন অনেকটাই সৌভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। এই পরিস্থিতি নতুন নয়; ঈদুল ফিতরের আগ থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তেলের সরবরাহে চরম সংকট দেখা দেয়। এমনকি একসময় সুপারশপগুলো থেকেও বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। এখনও মাঝেমধ্যে সুপারশপগুলোতে বোতলজাত তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা যায়। তবে আজ ঢাকার মুগদা, মানিকনগর, মতিঝিল ও খিলগাঁও এলাকার ‘স্বপ্ন’, ‘ডেইলি শপিং’ এবং স্থানীয় কয়েকটি সুপারশপে অল্প পরিমাণ বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মহল্লার মুদি দোকানের বিক্রেতাদের ভাষ্য, ডিলাররা চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছেন না। অনেক ক্ষেত্রে তেল নিতে গেলে তাদের বিভিন্ন শর্ত মানতে হচ্ছে। কখনো তেলের সঙ্গে কোম্পানির অন্যান্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, তবেই অল্প পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। আগের মতো বাকিতেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ ফোনে অর্ডার নিলেও দোকান পর্যন্ত তেল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল আনতে বাড়তি পরিবহন খরচ বহন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিলার কমিশনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে বোতলজাত সয়াবিন বিক্রিতে আগের মতো লাভ থাকছে না, ফলে অনেক দোকানি তেল সংগ্রহে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

মানিকনগর বাজারের বিক্রেতা আসলাম শেখ জানান, গত সপ্তাহে তারা ‘ফ্রেশ’ ব্র্যান্ডের অল্প কিছু বোতলজাত সয়াবিন তেল সংগ্রহ করেছেন। খোলা তেলের দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন বোতলজাত তেলের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পুরোনো ক্রেতাদের ধরে রাখতে কিছু তেল লুকিয়ে রেখে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে বাজারে অধিকাংশ দোকানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোনো কোনো দোকানে এর দাম ২২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। পাশাপাশি খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৫ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে সরকার থেকে অনুমতি না পাওয়ায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে পারেনি কোম্পানিগুলো। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভোজ্যতেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ