কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে ও সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে নানা বক্তব্য দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মোট ১১টি কমিশন গঠন করেছিল। এসব কমিশনের মধ্যে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য এবং নারী বিষয়ক কমিশনও রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। যারা সংস্কারের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা নারীর স্বাধীনতা বা উন্নয়ন নিয়ে কোনো আলোচনা করে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং ওষুধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যে স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করা হয়েছিল, সে বিষয়েও তারা কোনো কথা বলে না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়েও তাদের কোনো বক্তব্য নেই। বরং তারা শুধু সংবিধান নিয়ে কথা বলেই জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এক ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে সংক্রান্ত একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়কে কিছু মহল রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ ধরনের ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে—মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৮৬ সালের নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতি এবং ২০০৮ সালের ঘটনাতেও একই ধরনের চেষ্টা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং দেশে ও বিদেশে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু কিছু মহল এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বিরোধিতা করে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জনগণের কল্যাণমূলক কাজ উপেক্ষা করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জাতির সামনে ‘ভিশন ২০৩০’ উপস্থাপন করেছিলেন, যেখানে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশের উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সংস্কারের প্রস্তাবও সেখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে বিএনপি যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত ছিল, তাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও জনগণের সামনে সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। তিনি বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
তারেক রহমান বলেন, যখন বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব জনগণের সামনে তুলে ধরে, তখন স্বৈরাচারের ভয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সংস্কারের বিষয়টি উচ্চারণ করার সাহস পায়নি। কিন্তু বিএনপি খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক, মা-বোন এবং ছাত্র-জনতার দল হিসেবে সেই ভয়কে উপেক্ষা করে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারী শাসনের ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাত, যোগাযোগ ও শিক্ষা খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, কিছু মেগা প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি ছাড়া উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেই কমিশনগুলোর কাছে বিএনপি জনগণের পক্ষ থেকে নিজেদের মতামত জমা দিয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি সব কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে করে এবং কোনো বিষয় গোপন রাখে না। কোন বিষয়ে তারা একমত এবং কোন বিষয়ে দ্বিমত—সবই জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গণতন্ত্রে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক এবং সব বিষয়ে একমত হওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে নিজ জেলা বগুড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ আদালতে নবনির্মিত ভবন ও ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরে বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নামফলক উন্মোচন করেন। এরপর গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
কেউ খাচ্ছে না প্রজেক্ট হিলশায়
জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে: রিজভী
নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ