Monday, April 20th, 2026, 10:50 pm

কেউ খাচ্ছে না প্রজেক্ট হিলশায়

 

জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এলাকার আলোচিত রেস্টুরেন্ট ‘প্রজেক্ট হিলশা’তে। দেশের অন্যতম বড় এই রেস্টুরেন্টে একসময় যেখানে গ্রাহকের উপচে পড়া ভিড় ছিল, সেখানে এখন দিনভর বিরাজ করছে সুনশান নীরবতা।

গত শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল আয়তনের এই রেস্টুরেন্টটিতে হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া তেমন কোনো গ্রাহক নেই। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একজন গ্রাহকও প্রবেশ করেননি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ৫-৬ জন এলেও তারা খাবার না খেয়ে ঘুরে চলে যান।

রেস্টুরেন্টটির অন্যতম আকর্ষণ ওপেন কিচেন, যেখানে গ্রাহকদের সামনে ইলিশ, চিংড়ি, রূপচাঁদাসহ নানা মাছ রান্না করা হয়। তবে সেখানে মাছ সাজানো থাকলেও ছিল না ক্রেতার উপস্থিতি।

রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, পণ্যের দাম বেশি—এমন অপপ্রচার এবং জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে গ্রাহকরা গাড়ি নিয়ে আসতে পারছেন না। ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, রেস্টুরেন্টের ভেতরে গ্রাহক কম থাকলেও বাইরে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ইলিশ মাছের আদলে নির্মিত এই স্থাপনাটি দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় অনেকেই শুধু ছবি তুলতে আসছেন। পাশেই শিমুলিয়া ও মাওয়া ঘাট এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ইলিশ খেতে এলেও অনেকে প্রজেক্ট হিলশায় না ঢুকে আশপাশের সাধারণ হোটেলে চলে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, এই রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ বসে খাবার খেতে পারেন। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে বাংলা, ইন্ডিয়ান, থাই ও কন্টিনেন্টাল খাবারের পাশাপাশি ইলিশের ১৩ ধরনের পদ পরিবেশন করা হয়। এছাড়া বিফ, চিকেন, কাবাব, নান ও জুসসহ নানা আইটেম রয়েছে। খাবারের দাম শুরু ৩৫০ টাকা থেকে, আর ৬৫০–৭০০ টাকার মধ্যেই ইলিশসহ ভরপেট খাওয়া সম্ভব। খাবারের মূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য।

প্রজেক্ট হিলশার জেনারেল ম্যানেজার মো. নিশাত জানান, ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছে। প্রথমদিকে কিছু নেতিবাচক রিভিউ থাকলেও তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা সবসময় পদ্মার ইলিশ দেওয়ার চেষ্টা করেন, না থাকলে মেঘনা, চাঁদপুর বা ভোলার ইলিশ পরিবেশন করা হয়। অন্যান্য সি-ফুড সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়। গত তিন বছর বাজারদর বাড়লেও খাবারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রজেক্ট হিলশা মূলত ইলিশভিত্তিক হলেও এখানে থাই, চাইনিজ ও ইন্ডিয়ান খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। ৩৩০ টাকা থেকে সেট মেনু থাকায় সব শ্রেণির মানুষ এখানে খেতে পারেন। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য ওয়েলকাম ড্রিংকস হিসেবে কাঁচা আমের জুস, বেলের শরবত ও ফ্রি চায়ের ব্যবস্থা রয়েছে—যা ডাইনিং কিংবা ঘুরতে আসা সবার জন্য উন্মুক্ত।

নিশাত আরও জানান, তাদের নিজস্ব ডেইরি ফার্মের দুধ দিয়ে দই ও মিষ্টি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া এখান থেকে ইলিশ মাছও পাঠানো হয়। রেস্টুরেন্টে খাবার না খেলেও প্রবেশ, টয়লেট ব্যবহার কিংবা নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে। বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্যও নির্ধারিত বাজেট অনুযায়ী সব ধরনের আয়োজনের সুবিধা রাখা হয়েছে।

এনএনবাংলা/