Tuesday, April 21st, 2026, 12:58 pm

টেকনাফে পাহাড় থেকে রক্তাক্ত তিন লাশ উদ্ধার

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর শীলখালী এলাকার গহীন পাহাড় থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুইজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু ঘটে। নিহতরা হলেন মুজিবুর রহমান, নুর বশর ও রবিউল আউয়াল। তারা তিনজনই বাহারছড়া শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানবপাচারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, পাহাড়ি এলাকা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

নিহত রবিউল আউয়ালের বাবা রুহুল আমিন বলেন, ‘রাতে মুজিব আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে পাহাড়ে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা বুঝতে পারছি না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কাঠুরিয়া জানান, সম্প্রতি পাহাড়ি এলাকায় লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা বেড়েছে। মাঝেমধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দও শোনা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, জিম্মিদের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের আতঙ্কে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ