ভালুকা পৌর সদর পেরিয়ে গ্রামাঞ্চলে দ্রুত বিস্তার ঘটছে অনলাইন জুয়ার। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে অবৈধ এ কার্যক্রম এখন নীরবে ঢুকে পড়েছে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে। ফলে বাড়ছে আসক্তি, ভেঙে পড়ছে পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামো। ভার্চুয়াল এই জুয়ার জালে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও গ্রামে যেখানে সাধারণ জুয়ার প্রচলন সীমিত ছিল, এখন সেখানে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইন বেটিং, ক্যাসিনো গেমসহ নানা ধরনের জুয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় দোকান, হাটবাজারের চায়ের দোকানসহ নানা স্থানে মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলতে দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোবাইল অ্যাপ, ফেসবুক গ্রুপ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে খুব সহজেই এসব জুয়ার প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন মানুষ।
শুরুর দিকে অল্প টাকা দিয়ে খেলা শুরু করলেও ধীরে ধীরে বড় অঙ্কের টাকার লোভে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। ইতোমধ্যে অনেকে হারিয়েছেন জমানো সঞ্চয়; বিক্রি করেছেন গরু-ছাগল, এমনকি জমিজমাও।

ভালুকা পৌর সদরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া শিখেছিলাম। শুরুতে লাভ হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রতিদিনই লোকসান বাড়ছে। তবুও ছাড়তে পারছি না। এখন ঋণের বোঝা নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং মানসিক চাপ, হতাশা এবং অপরাধ প্রবণতাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেকেই টাকা হারিয়ে চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, “অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, কারণ অধিকাংশ প্ল্যাটফর্ম বিদেশভিত্তিক। তবে দালাল ও এজেন্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। সচেতনতার অভাবে সমস্যা বাড়ছে। এ থেকে উত্তরণে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।”
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে খননকাজে মাটি ধসে নিহত ২ শ্রমিক, আহত ২
বনানীতে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে ধাক্কা, নিহত ২
হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১,১৭০