Saturday, January 3rd, 2026, 8:42 pm

হাদির হত্যার বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া করার সুযোগ নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে তাড়াহুড়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বিচার একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেখানে তাড়াহুড়া করা যায় না। তবে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে উপদেষ্টা জানান, এখন পর্যন্ত শতভাগ নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অন্তত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি যে জড়িতরা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অবস্থান করছে। জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে তারা সম্ভবত সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। যদি সুনির্দিষ্টভাবে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়, তাহলে ভারতকে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে এমনিতেই নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কতটা অগ্রগতি হয়, সেটি সময়ই বলে দেবে।

এই মামলার বিচার শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। এটি পুরোপুরি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। তবে ইতোমধ্যে চার্জশিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চার্জশিট দাখিল বিচার প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ধাপ, যা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পরবর্তী সময়ে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে যেন অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। বিচার পরিচালনা করবে আদালত এবং সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

এ সময় নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো চাপ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক মোটের ওপর ভালো এবং চাপের কোনো বিষয় নেই। সরকার নিজ উদ্যোগেই নির্বাচন আয়োজন করতে চায়।

তিনি বলেন, এই সরকার চায় যত দ্রুত সম্ভব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য।

তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, সময় খুবই সীমিত—মাত্র ছয় সপ্তাহ। তাই এখানে বাইরের চাপের প্রশ্ন ওঠে না। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং ইনশাআল্লাহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব বিষয় সমাধান করা সম্ভব হবে। অন্যান্য দেশ আমাদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক রাখবে, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

এর আগে শনিবার সকাল ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের দক্ষিণ কোটগাঁওয়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। পরে তিনি শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ তিনজনের কবর জিয়ারত করেন।

এ সময় মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ