Monday, January 5th, 2026, 3:00 pm

প্রশাসন বিএনপির দিকে হেলে পড়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

 

প্রশাসন বিএনপির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা–৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘আজাদী পদযাত্রা’ শুরুর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তারা এমন তথ্য পাচ্ছেন যে প্রশাসনের একটি অংশ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, আর সেই দলটি হলো বিএনপি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ দপ্তর ছেড়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাকে সালাম জানিয়েছেন। এ ধরনের দৃশ্য শেখ হাসিনার শাসনামলেও দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে এমন চর্চা কাম্য নয়।

তিনি ঢাকা–৮ আসনের রমনা, শাহবাগ, মতিঝিল ও শাহজাহানপুর এলাকাসহ পুরো বাংলাদেশকে ‘আজাদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা আজাদীর জোটকে বেছে নিয়েছি। আমাদের ১১ দলীয় জোট ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশকে আজাদ করার লক্ষ্যেই আজাদীর সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। আমাদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল—গোলামির প্রতীক গ্রহণ করা অথবা আজাদীর প্রতীক গ্রহণ করা। আমরা আজাদীর প্রতীককেই বেছে নিয়েছি।’

তার দাবি, এই ১১ দলীয় জোট বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব ধরনের পরাধীনতা থেকে মুক্ত করার আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।

এর আগে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং তিনি যে আজাদীর সংগ্রাম শুরু করেছিলেন তা সম্পন্ন করাই এখন তাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই অঙ্গীকার থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে নতুন করে আজাদী যাত্রা শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা–৮ আসনের রমনা, শাহবাগ, মতিঝিল ও শাহজাহানপুরসহ দেশের যেকোনো স্থানে কেউ যদি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী তৎপরতা বা দখলদারিতে জড়িত হয়, তাহলে আজাদীর স্লোগান তুলে তাদের ধরে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে হবে। আর যদি প্রশাসন এসব চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

নির্বাচনি আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারির আগে আজাদী পদযাত্রায় কোনো প্রতীক ব্যবহার বা ভোট প্রার্থনার কার্যক্রম থাকবে না। আচরণবিধি প্রত্যাহারের পর নিয়ম মেনেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হবে। তবে তিনি আবারও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের একটি অংশ বিএনপির প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছে, যা একটি অসুস্থ নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ