Monday, January 5th, 2026, 5:25 pm

যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে, তারা ব্যর্থ হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, যারা আসন্ন নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে বিষয়টি কঠোরভাবে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সব স্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকল বাহিনীকে মাঠে সমন্বিতভাবে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও সভায় প্রদান করা হয়েছে। তিনি সাধারণ জনগণসহ সকল সংশ্লিষ্টকে অনুরোধ করেন, যেন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সক্রিয় সহযোগিতা করেন এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলেন।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সময়মতো নির্বাচন আয়োজন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন। এ সংক্রান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোরভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় প্রবেশ করতে পারবেন এবং যে কোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে কাজ করতে পারবেন।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সব বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন, যাতে সহযোগী সেজে আসা নাশকতা বা অনুপ্রবেশকারীরা দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে। পারস্পরিক দোষারোপে নাশকতাকারীরা যেন সুযোগ না নিতে পারে, সে বিষয়েও দলগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় উপদেষ্টা ১৩ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযান সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরেন, যেখানে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।

তিনি জানান, ডিসেম্বর মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৫৮টি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে এবং ১,৬১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে, এতে ২,৩৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা পুনরায় প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রতিরোধের বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশের সীমান্ত ও পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা, চোরাচালান, মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি এবং শান্তি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সীমান্ত ও পার্বত্য এলাকায় নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

উপদেষ্টা র‍্যাব ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের তথ্যও তুলে ধরেন।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গবেষণা ও নজরদারি বৃদ্ধি করা। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিকভাবে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ