বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলের পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলন অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হচ্ছে না।
মঙ্গলবার আন্দোলনরত ১১ দলের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণের ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ১১ দলীয় জোটে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কিছুদিন পর জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি জোটে যুক্ত হলে আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই শতাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানানোয় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।
২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি আসনে প্রার্থী দেয়। একই দিনে ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি, এনসিপি ৪৪টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি এবং খেলাফত মজলিস ৬৮টি আসনে প্রার্থী দেয়। এতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে দ্বন্দ্ব সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তত ২৪০টি আসনে দুই দলের প্রার্থীরা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
নতুন দলগুলো জোটে যুক্ত হওয়ার পর ‘সন্দেহ ও অবিশ্বাস’ প্রকাশ করেন চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা। তাদের অভিযোগ, জামায়াত একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিল। আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে তারা আসনের দাবি কমালেও সর্বশেষ দাবি ছিল ৫০টির বেশি আসন। তবে জামায়াত ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি আসন ছাড় দিতে চায়। এ নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ইসলামী আন্দোলনের একাংশের ধারণা, ৪০ থেকে ৪৫টি আসনে সমঝোতার সুযোগ থাকতে পারে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
সাকিবুল হত্যার বিচার চেয়ে ফার্মগেট অবরোধ, বাস ভাঙচুর
কে কী বলল তা বিবেচ্য নয়, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা
ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘খুবই কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়া হবে: ট্রাম্প