তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, এমন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আমরা চাই না, যার ফলে দেশ ছেড়ে পালাতে হয় কিংবা জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে সৎ উত্তর দেওয়ার সাহস থাকে না। তিনি বলেন, ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াই আমাদের অবস্থান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনি স্কুল মাঠে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভোটের রিকশা’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথ খুলে যাবে এবং জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা শুরু করবে। তিনি বলেন, সাধারণত একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার সময় সব বিষয় পছন্দ না হলেও অধিকাংশ বিষয়ে সমর্থন থাকায় মানুষ সেই দলকেই ভোট দেয়। গণভোটের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রস্তাবগুলোর সামগ্রিক ইতিবাচক দিক বিবেচনা করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে হবে।
বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১১ সালে বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে বিচার বিভাগের ওপর আর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে মাত্র চার মিনিটে সংবিধান সংশোধন ও আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জনগণ জানতে চায়, তাদের পক্ষে কী কাজ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উপদেষ্টা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ থাকা উচিত নয়। কোনো সচিব বা কর্মকর্তা কোনো দলের লোক—এমন বিভাজন থাকা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।
অতীতের নির্বাচনগুলোকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও মানুষের অংশগ্রহণ ছিল না। টানা ১৮ বছর ধরে এ ধরনের তথাকথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটানো জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণভোটকে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কেউ কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করতেই পারেন, তবে এই গণভোট দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয়। জাতীয় স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ বললে দেশ উপকৃত হবে। দেশ জিতলে সবাই জিতবে—এটাই বাস্তবতা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহাবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
তারেক রহমানের সঙ্গে রুশ রাষ্টদূতের বৈঠক
হাসিনার ‘পিয়ন’ জাহাঙ্গীরের পরিবারের সম্পদ জব্দের আদেশ
বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পরই চমকে ওঠেন বর, অভিযোগ গড়াল আদালতে