ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, কর ও ভ্যাট কমানো, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান এবং আইসিটি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট–২০২৬’ অনুষ্ঠানে জামায়াতের নীতিনির্ধারক ও প্যানেলিস্ট বক্তারা এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
‘পলিসি সামিট–২০২৬’: নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা
পলিসি সামিটে বিভিন্ন প্যানেল ডিসকাশনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নীতিগত রূপরেখা ঘোষণা করে জামায়াত। ঘোষিত পয়েন্টগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো—
অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থা
১. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
২. ধাপে ধাপে কর ও ভ্যাট কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯% ও ভ্যাট ১০% নির্ধারণের লক্ষ্য।
৩. স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু (এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এক কার্ডে)।
৪. আগামী ৩ বছরে শিল্পখাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি।
৫. বন্ধ কলকারখানা পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু এবং শ্রমিকদের ১০% মালিকানা প্রদান।
৬. ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা।
৭. ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা।
শিক্ষা খাতে প্রতিশ্রুতি
৮. গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ ২ বছর মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ।
৯. মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১ লাখ শিক্ষার্থীকে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ।
১০. প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ—হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজে পড়ার সুযোগ।
১১. ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনোমিক্স কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
১২. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর।
১৩. সব নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিকল্পনা
১৪. ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা।
১৫. ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।
১৬. ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা।
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন
১৭. দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য নতুন মন্ত্রণালয়।
১৮. ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ।
১৯. প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন।
২০. প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’, ৫ বছরে ৫০ লাখ জব এক্সেস।
২১. নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি।
২২. ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরির লক্ষ্য।
২৩. স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য বিশেষ স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম।
আইসিটি ও ভিশন ২০৪০
২৪. আইসিটি সেক্টর উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা।
২৫. ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট।
২৬. ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে।
২৭. আইসিটি খাত থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রা।
২৮. আইসিটি খাতে সরকারের ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয়।
২৯. শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর।
রেমিট্যান্স ও প্রবাসী পরিকল্পনা
৩০. দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে ৫–৭ বছরে রেমিট্যান্স আয় ২–৩ গুণ বৃদ্ধি।
৩১. প্রবাসী গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ চালু।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ছাড়াল ৩ হাজার কোটি টাকা, সাফল্যের নতুন মাইলফলক
নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
পবিত্র রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ