হঠাৎ করেই প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আর কোনো সিনেমায় গান গাইবেন না। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে তার এমন ঘোষণায় সংগীত জগতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন, ভক্তদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন—কেন এই সিদ্ধান্ত?
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন, “সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি আজ জানাচ্ছি যে, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করব না। আমি এখানেই শেষ করছি। এটা ছিল এক অসাধারণ সফর।”
প্লেব্যাক ছাড়ার সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে ৩৮ বছর বয়সী এই শিল্পী ব্যক্তিগত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে নিজেই তুলে ধরেন সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণগুলো।
তিনি লেখেন, “কেবল একটা নয়, একাধিক কারণ রয়েছে। এবং আমি বেশ কিছুদিন ধরেই সেগুলো নিয়ে ভেবেছি। অবশেষে প্রয়োজনীয় সাহস সঞ্চয় করতে পেরেছি।”
নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানিয়ে অরিজিৎ বলেন, “আমি খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। এ কারণেই আমার গানের সুরের বিন্যাস ঘনঘন বদলাই এবং সেগুলো লাইভে পরিবেশন করি। সত্যি বলতে, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নিজেকে বিকশিত করতে হলে ভিন্ন ধরনের সংগীত অন্বেষণ জরুরি।”
অরিজিতের ভাষায়, “আমি চাই নতুন কণ্ঠ উঠে আসুক। কোনো নতুন গায়ক আমাকে অনুপ্রাণিত করুক—এই উত্তেজনাই এখন বেশি টানে। সংগীত এগিয়ে যায় নতুন কণ্ঠ আর নতুন ভাবনার মাধ্যমে, আর সেটার জন্য জায়গা করে দেওয়া দরকার।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি সংগীতের একজন ভক্ত। ভবিষ্যতে একজন ছোট শিল্পী হিসেবে আরও শেখার ও স্বাধীনভাবে গান তৈরিতেই মনোযোগ দেব। বিষয়টি পরিষ্কার করে বলতে চাই—আমি গান তৈরি করা বন্ধ করছি না।”
তিনি আরও জানান, এখনো কিছু অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলো পূরণ করবেন। ফলে চলতি বছরেই ভক্তরা তার নতুন কাজ দেখতে পারেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে রিয়্যালিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এর মাধ্যমে প্রথমবার আলোচনায় আসেন অরিজিৎ সিং। যদিও সেখানে তিনি ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করেছিলেন, তবে তার প্রতিভা নজর কাড়ে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি ও সংগীত পরিচালক প্রীতম-এর। ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে শুরু হয় তার প্লেব্যাক সফর। এরপর ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’-এর ‘তুম হি হো’ গান তাকে রাতারাতি গ্লোবাল সুপারস্টারে পরিণত করে।
এদিকে, গত এক দশক বলিউড ও টলিউডের প্লেব্যাক জগতে রাজত্ব করা এই শিল্পীর হঠাৎ স্বেচ্ছা অবসরের ঘোষণায় সংগীত মহলে নেমে এসেছে বিস্ময়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় ভক্তরা জানাচ্ছেন তাদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
ছয় আমদানিকারকের জিম্মায় রোজার বাজার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের আশঙ্কা
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছি না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
আওয়ামী লীগ ভোটের পরিবেশ নষ্ট করলে কঠোর ব্যবস্থা: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান