February 15, 2026
Sunday, February 15th, 2026, 2:25 pm

ইরানে সপ্তাহজুড়ে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: এএফপি

 

ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুমতি দিলেই এই অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুজন মার্কিন কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে তারা বলেন, প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অনুমোদন পেলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও ভয়াবহ হতে পারে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় ওমান-এর মধ্যস্থতায় আগামী মঙ্গলবার দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই এমন তথ্য সামনে এলো।

প্রস্তুতির বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় এ নিয়ে তথ্য দেওয়া মার্কিন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশে রাজি হননি। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুশি হবেন। তবে এই চুক্তি করা অত্যন্ত কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি কয়েক হাজার অতিরিক্ত সৈন্য, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হচ্ছে। এসব বাহিনী আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—দুই ক্ষেত্রেই সক্ষম।

নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে এক সামরিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বক্তব্যেও ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে এটিই হবে সবচেয়ে ভালো ঘটনা।’ ইরানের ক্ষমতায় কাকে দেখতে চান, সে বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও বলেন, ‘সেখানে লোক আছে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা, কথা আর কথাই বলে আসছে।’

মধ্যপ্রাচ্যে এখন পর্যন্ত মোতায়েনকৃত মার্কিন সামরিক শক্তি মূলত বিমান ও নৌবাহিনীকেন্দ্রিক হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে গত মাসে ভেনেজুয়েলায় এক ঝটিকা অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে এমন অভিযানে ‘স্পেশাল ফোর্স’ ব্যবহারের দিকেও ঝুঁকতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।

পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন নির্ভর করছে কূটনৈতিক বৈঠকের অগ্রগতি ও হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

এনএনবাংলা/