February 28, 2026
Saturday, February 28th, 2026, 9:26 pm

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে কোন দেশের কী প্রতিক্রিয়া

 

শনিবার সকাল থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন শহরে আকস্মিক সামরিক হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহারাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ফলে পুরো অঞ্চল আবারও তীব্র সামরিক উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

নিচে বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো—

রাশিয়া

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর আড়াল হিসেবে পরমাণু আলোচনা ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী আবারও তার আসল চেহারা দেখাল।” রুশ প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এই নেতা আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ছিল কেবল একটি ঢাল, প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সামরিক পদক্ষেপ।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে সহায়তার প্রস্তুতির কথাও জানায় মস্কো।

পাকিস্তান

ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনালাপে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই হামলাকে অযৌক্তিক আখ্যা দেন।

তিনি দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনে উভয় পক্ষকে সংলাপে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরায় শুরুর তাগিদ দেন।

লেবানন

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম ইরানে যৌথ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও ঐক্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এমন কোনো সংঘাতে লেবাননকে জড়াতে দেওয়া হবে না।

আফ্রিকান ইউনিয়ন

আফ্রিকান ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, জরুরি ভিত্তিতে উত্তেজনা হ্রাস এবং টেকসই সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান মাহমুদ আলী ইউসুফ সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা বাড়লে তা বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা আরও জটিল করবে এবং জ্বালানি বাজার, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষ করে আফ্রিকায়।

নরওয়ে

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেন, ইসরায়েল হামলাকে প্রতিরোধমূলক আঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, প্রতিরোধমূলক হামলার জন্য তাৎক্ষণিক ও আসন্ন হুমকির উপস্থিতি জরুরি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন–এর প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইউরোপ ইতোমধ্যে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানান।

ইতালি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইরানের বেসামরিক জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। উত্তেজনা কমাতে তিনি মিত্র দেশ ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিস এক বিবৃতিতে বলেন, তার দেশ নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে। পাশাপাশি ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ করতে না পারে, সে প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনের কথাও জানান তিনি।

ইউক্রেন

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে ইরানি শাসনের সহিংসতা ও দমন-পীড়ন গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।

স্পেন

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত ও বৈরী করে তুলছে।

নেদারল্যান্ডস

নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন এক বার্তায় সকল পক্ষকে সংযম ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।