যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানজুড়ে সহিংস বিক্ষোভে অন্তত ২৫ জন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সরকারের শান্ত থাকার আহ্বান সত্ত্বেও বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। খবর জিও নিউজের।
করাচিতে ১০ নিহত, মার্কিন কনস্যুলেট ঘিরে উত্তেজনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালে ১০ জন নিহত হন। গিলগিত-বালতিস্তানের স্কারদুতে ১৩ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ২ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটমুখী সব সড়ক বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। সুলতানাবাদ সেতুর নিচে একটি ট্রাফিক পুলিশ পোস্টে আগুন দেওয়া হয়। আইআই চুন্দ্রিগড় রোডে সেন্ট্রাল পুলিশ অফিসের কাছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। নেটিভ জেটি ব্রিজ ও কাস্টমস হাউস সংলগ্ন এলাকাতেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন। করাচির সিভিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিহত ও আহতদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ।
সিন্ধু সরকারের মুখপাত্র জানান, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার তদন্তে প্রাদেশিক সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করেছে।
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতে গভীর শোক প্রকাশ করে করাচির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি আল্লামা শহেনশাহ হুসাইন নকভি ও আল্লামা শাব্বির মাইসামিসহ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ইসলামাবাদ ও লাহোরেও সংঘর্ষ
রাজধানী ইসলামাবাদে কূটনৈতিক এলাকা ‘রেড জোন’-এ যাওয়ার সব সড়ক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। হাজারো বিক্ষোভকারী ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ টিয়ারশেল ও গুলি ছোড়ে। এতে দুজন নিহত ও প্রায় ১০ জন আহত হন।
পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরেও শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে সমবেত হন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ছোটখাটো সংঘর্ষ হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভী বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। ইরানের জনগণের মতোই প্রতিটি পাকিস্তানি শোকাহত।”
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান আলেমদের
শীর্ষ আলেমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। আল্লামা শহেনশাহ নকভি বলেন, শোকের এই সময়ে ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার করতে হবে। আল্লামা শেখ আগা বাকির বলেন, প্রতিবাদ নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন হলেও তা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে। আল্লামা তাহির আশরাফি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সবার অধিকার; তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে আগুন দেওয়া বা ক্ষতিসাধন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
খামেনির পর এবার মারা গেলেন তাঁর স্ত্রী মানসুরেহ
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান, তার স্ত্রীসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
রাকসু জিএসের সঙ্গে ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতির বাকবিতণ্ডা