Tuesday, April 7th, 2026, 8:39 pm

৪ অধ্যাদেশ রহিতে বিতর্ক: জনমনে নেতিবাচক প্রভাব, আরও যাচাইয়ের পক্ষে এমপিরা

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বিচার বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশকে ঘিরে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করার পক্ষে মত দিয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা (এমপি)।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় সভাকক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদীয় দলের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তী বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬—এই চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

সভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে হবে কাজের মাধ্যমে। সংসদের প্রতিটি মিনিট মূল্যবান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এসময় এমপিরা মত দেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন এবং অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে যুগান্তকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হলে জনমনে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তাই আইনগুলো পাসের আগে বিশেষজ্ঞ মতামত ও জনমত বিবেচনায় নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরাও এই দুটি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষ কমিটিতে দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এ তারা বলেন, এই অধ্যাদেশগুলো বিচার বিভাগকে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়—

  • অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশকে দ্রুত স্থায়ী আইনে রূপান্তর
  • সংসদ অধিবেশনে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা
  • স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% বরাদ্দ
  • ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু

সভায় সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদীয় কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

এনএনবাংলা/